কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরের আমন ক্ষেতে ভাইরাস এর আক্রমণের কারনে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা।
কেশবপুর উপজেলা কৃষিঅধিদপ্তর এর তথ্যমতে চলতি বছর উপজেলা ৭হাজর ৭১হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ নথিভুক্ত হলেও বেসরকারি হিসাবে আবাদের পরিমান অনেক বেশি।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন কালে দেখা যায়,৫০%শতাংশ জমির আমন ক্ষেতের ধান পাঁক ধরেছে। এসব জমির প্রায় জমিতে ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট আক্রান্তের কারনে ধানের বাইল শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। তবে জমিতে গান্ধি পোকার আক্রমণ ও থাকতে পারে, বলে দাবি করেছন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবাদুল্লা আলমামুন। তিনি আরো বলেন,গান্ধি পোকার আক্রমন থাকলে সে ক্ষেত্রে ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন,ইঁৎশযড়ষফবৎরধ মষঁসধব নামক এক ধরণের ব্যকটেরিয়া এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব।এই রোগ ব্যকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। ব্যাকটেরিয়াটি হলুদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে ফলে এই রোগ ছড়ায়। এছাড়া বাতাসের আদ্রর্তা ৮০ শতাংশের উপরে, খুব ঘন আকারে চারা রোপন ও অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এ রোগের প্রার্দুভাব বাড়ায়।ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ও দানা গঠনের সময় কোন পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়।
শিষের ছোট ছোট ধান গুলো সঠিকভাবে দানা বাধতে পারে না এবং চিটা হয়ে যায় তবে শিষের সকল দানা গুলো চিটা হয় না। আক্রান্ত ধানের দানা গুলো ধূসর/কাল/গোলাপী রং ধারণ করে। শিষে চিটা হওয়ার ফলে ওজন থাকে না বিধায় শিষগুলো খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শিষের নিচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে ব্যকটেরিয়াগুলো ধানগাছের পাতা এবং খোলে
অবস্থান করে এবং তারা প্রতিকুল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ধানগাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যকটেরিয়াগুলো গাছের উপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যকটেরিয়া টি ধানের শিষ বের হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আক্রমন করে।ফুলের রেনুগুলো নষ্ট করে ফলে ধানের দনা গুলো চিটাতে পরিনত হয়।ব্যকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে বেশ ছড়ায়।যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরে এবং রাতের তাপমাত্রা২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে এরকম আবহাওয়া এই রোগ ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত। এছাড়া অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার এই রোগের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ব্যকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজ
বাহিত রোগ। সে ক্ষেত্রে রোগ আক্রান্ত বীজ হতে চারা উৎপাদন করে আবাদ করলে তা নিয়ন্ত্রনের বাস্তবিক কোন উপায় নেই। তবে তিনি আরো বলেন,আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ বপনের পূর্বে তা শোধন করা,আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন, সঠিক বয়সের চারা রোপন, রোপনের সময় লাইন ও লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করা,
সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা। থিরাম৩৫এসসি দিয়ে বীজ শোধন করে বীজ বপন করা। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন-ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মুরগির লিটার ইত্যাদি) ব্যবহার করা।অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা।আক্রমণ প্রবণ এলাকায় থোর অবস্থায় একবার ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করা, থোর অবস্থায় জমিতে পানি ধরে রাখা (১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ সার+৩০ গ্রাম সালফার ৮০%+৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক) একত্রে মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে বলে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ দিকে মাঠ পর্যায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকের যোগাযোগ নেই বলে একাধিক কৃষক দাবি করেন। বিভিন্ন পেস্টিসাইড কোম্পানি প্রতিনিধি কৃষকের শেষ ভরসা বলে জানান।
