জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ স্বপ্নে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মৎস্য চাষিদের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটতে শুরু করেছে। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বৃহত্তর এ উপজেলার ব্যবসায়ীদের মাছ ঢাকায় নেয়া ছিল অত্যান্ত কষ্টকর ও অনেকটা ব্যয়বহুল। তবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ফলে বৃহত্তর এ উপজেলার মৎস্য খাতে খুলতে শুরু করেছে সম্ভবনার নতুন দুয়ার।
আগামী বছর এ উপজেলায় মৎস্য ব্যবসা সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা মৎস্য চাষি ও মৎস্য বিভাগের। এতে করে মৎস্য চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হবেন। পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। সেই সাথে সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও। উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে বৃহত্তর বাওড় রয়েছে ৫টি। এগুলো হচ্ছে ঝাঁপা, চালুয়হাটি ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের ঝাঁপা বাওড়, মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাওড়, হরিহরনগর ইউনিয়নের খাটুরা ও হরিহরনগর বাওড়, খেদাপাড়া ইউনিয়নের খেদাপাড়া বাওড়।
এছাড়া মৎস্যঘের রয়েছে ৪হাজার ৮১০টি। এরমধ্যে গলদা চিংড়ির ঘের ২হাজার ৫৮৫টি ও পুকুর রয়েছে ১০হাজার ৬৪৩টি। এ সকল ঘের, পুকুর ও বাওড়ের শতশত মন মাছ প্রতিদিন সড়ক পথে নিয়ে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তুু ফেরিঘাটে তীব্র যানজোটের কারণে যথা সময়ে পৌছাতে না পারায় বিনষ্ট হয় ট্রাক ভর্তি মাছ। যে কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় অসংখ্যা মৎস্য ব্যবসায়ীকে।
এখন পদ্মা সেতুর ফলে আমুল পরিবর্তন আসবে বৃহত্তর এ উপজেলায় মৎস্য ব্যবসায়। বাড়বে মাছের দাম ও সাশ্রয় হবে পরিবহন খরচ এবং সময়। যার সুফল পাবে পাইকার থেকে শুরু করে প্রান্তিক জেলেরাও। বর্তমানে যশোর, খুলনা ঝিনাইদাহ, মাগুরা, ফরিদপুর ও ঢাকাসহ অন্যান্য বাজারে বছরে প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩শ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে এখন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৪০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা মৎস্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
এব্যাপারে মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাওড়ের লিজ গ্রহীতা মলয় কুমার ও ঝাঁপা ইউনিয়নের ঝাঁপা বাওড়ের লিজ গ্রহিতা বিপ্লব কুমার জানান, শুধুমাত্র যাতায়াতের জন্য এ দু’টি বাওড়ের মাছ নিয়ে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কমদামে বিক্রি করতে হতো। এখন পদ্মা সেতু হওয়ায় তারা বাওড় থেকে মাছ ধরার পর দ্রুত ঢাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে। পাশাপাশি বাঁচবে টাকা ও কমবে ভোগান্তি। এতে করে তারা পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে এখন অনেকটা লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করেন এ দুই বাওড়ের লিজ গ্রহিতারা।
মনিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ জানান, প্রতি বছরই বৃহত্তর এ উপজেলায় মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তুু ভালো বাজারের অভাবে এ উপজেলার মৎস্য চাষিরা খুব বেশি লাভের মুখ দেখতে পেতেন না। তবে স্বপেরœ পদ্মা সেতুর খুলে দেয়ার ফলে মৎস্য চাষিরা অতি সহজে রাজধানী ঢাকার বাজার দখল করতে পারবে। আর এতে করে বৃহত্তর এ উপজেলার শতশত মৎস্য চাষি অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হবেন বলে মনে করেন উপজেলার এ মৎস্য কর্মকর্তা।
