হুমায়ুন কবির সোহাগ কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের এসএপিপিও পদে কর্মরত আনোয়ার হোসেনের নামে স্বাক্ষর জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।তিনি মহেশপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় হামিদুল হক ও মতিয়ার রহমান নামের দুইজন ব্যবসায়ীর বালাইনাশক লাইসেন্স প্রদান করেছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার বিজয় কৃষ্ণ হালদার এর স্বাক্ষর জাল করে । পরবর্তীতে ওই লাইসেন্স নবায়নের জন্য পুনরায় বিজয় কৃষ্ণ হালদার এর নিকট গেলে তিনি স্বাক্ষর জালিয়াতির ব্যাপারটি ধরে ফেলেন। ব্যাপারটি তখন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যে কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে সেই কর্মকর্তাকেই উক্ত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিজয় কৃষ্ণ হালদার স্বাক্ষরিত ১৪০৮/১(৩) স্মারক নাম্বারে একটি পত্র প্রেরণ করা হয় ১৭ জুন কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ বালাইনাশকের লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে জাল-জালিয়াতি করে আসছেন। শুধু তাই নয় তিনি বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিম্ন মানের বালাই নাশক ওষুধ বিক্রির ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।আর এসব দুর্নীতিমূলক কাজ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই করেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম করলেও তিনি ধরা পড়েন নি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।এ ব্যাপারে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আজগর আলী জানান,আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর জালিয়াতির ব্যাপারটি আমরাই ধরেছি।তার অনৈতিক এ কর্মকান্ডের ব্যাপারে আমি অতিরিক্ত পরিচালক মহোদয়কে অবহিত করেছি।একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।এ কমিটি আমি স্থগিত করেছি।পুনরায় নতুন কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

