প্রত্যয় জামান
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ উপহার পাকাঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত যশোরের কেশবপুরের এমান নগর গ্রামের ভিটে-মাটি হারা আমির আলী।এই আসহায়ের জীবন ছিল জলে ভাসা পদ্মের মতো। ঢেউয়ে ঢেউয়ে একেক সময় একেক জায়গায় ভেসে বেড়ানো ছিল তার নির্মম নিয়তি। মাথার গোজার ঠায় বলতে ছিল অন্যের দুয়ারে মুখাপেী হয়ে থাকা। ভুমিহীন আমির আলীর দুঃস্বপ্নের ঘোলাটে চোখে আশার আলো হয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীন পরিবারের জন্য বাস গৃহ নির্মাণের আশ্রয়ন প্রকল্প। তার মত যশোরে আরো ২৬২ গৃহীন পরিবার পাচ্ছেন স্বপ্নের এই সুন্দর বাড়ি।শুধু বাড়ি নয় বাড়ির সাথে পাচ্ছেন ২ শতক জমির দলিল। বৃহস্পতিবার এই বাড়ি এবং জমির দলিল হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে সরাসরি ভার্চুয়ালী যুক্ত হবেন। এর আগে যশোরে ৬৬৬ টি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয় এই ঘরের চাবি। তারা এখন সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপল্েয যশোরের গৃহীন পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উপহার । তাদের জন্য প্রস্তত করা হয়েছে মাথা গোজা আশ্রয়ের সুন্দর ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার সৃস্টিকর্তার অপার কৃপা বলে মনে করছেন তারা। জেলার ৮ উপজেলায় গরীব আসোহায় ভিটে বাড়ি হারাদের এই সুদৃশ্য ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। দুইশতক জমির ওপর দু’টি শয়ন ক, রান্নাঘর, ল্যাট্্িরন এবং ইউটিলিটি স্পেসসহ প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে এই সুন্দর বাড়ি। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫ শ’ টাকা।
স্বপ্নের এই বাড়ির আঙ্গিনায় পা রাখার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আমির আলী বলেন, গ্রামের গরীব দুখী মানুষের জন্য শেখ হাসিনা যা করছেন অতিতে কোন সরকার তা করেননি। প্রাধানমন্ত্রীর এই অবদান তারা কখনও ভুলবেননা। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশে শতভাগ ভূমিহীন মুক্ত করার যে মহাকর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন সেই ধারাবাহিকতায় কেশবপুরে বাস্তবায়ন করা হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৃতীয় পর্যায়ে ৬২ টি ঘর। এইসব ঘর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের সকল প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার প্রদান উপলে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে এক সংবাদ সম্মেলনের আযোজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ইতোমধে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। যশোরে তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ২৬২টি পরিবারকে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য দুই শতক জমি, দুই ক বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর, রান্না ঘর, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ও বিনামুল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সারা দেশের সাথে যশোরের সাত উপজেলার ভূমি ও গৃহহীন এসব পরিবারকে জমি ও ঘর উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।#

