সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মণিরামপুরে গোছলের ভিডিও ধারনকারির বিচার না পেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

আরো খবর

# এসআই আবু বক্কারের মধ্যস্থায় থানায় মিমাংসাকালে ভিকটিম পরিবারকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মণিরামপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর গোছলের ভিডিও ধারনকারি শামীশ হোসেন (২৪) নামে যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। অভিযোগের ৪ দিন পর তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আবু বক্কার সিদ্দিকী দুই পক্ষকে থানায় ডেকে মিমামংসার চেষ্টাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ভিকটিম পক্ষকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার পর থেকে আসামী পক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তায়হীনতায় ভ’গছে ভিকটিম পরিবার।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানাযায়, শামীম হোসেন উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের মৃত সুজায়েত হোসেনের ছেলে। ভিকটিম ও শামীমের পাশাপাশি বাড়ি। সেই সুবাদে সুবাদে প্রায় ভিকটিমের বাড়িতে যাতায়াত করতো। শিক্ষার্থীর মা বাড়িতে আসতে নিষেধ করায় শামীম ক্ষিপ্ত হয়। বছরখানেক আগে গভরি রাতে শামীম ওই শিক্ষার্থীর ঘরে উঠে। শিক্ষার্থীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে শামীমকে ধরে মারপিট করে। পরে গ্রামে শালিসী সভায় ক্ষমা চেয়ে সেবারের মত পার পেয়ে যায় শামীম।
ভিকটিম শিক্ষার্থী জানায়, গত বুধবার মাদ্রাসা থেকে ফিরে বাড়ির উঠানে পলিথিন ও সিমেন্টের কাগজ দিয়ে ঘেরা টিউবওয়েলে গোছলের সময় শামীম গোছলের দৃশ্য মোবইলে ধারন করে। দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে মা এগিয়ে আসে। পরে শামীমের ভাইজি পিংকির কাছ থেকে জানতে পারেন সেখানে শামীম ছিল। ওই শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনা বিচারসহ নিজের নিরাপত্তা দাবি করেছে।
ভিকটিমের মা জানান, তিনি তাৎক্ষনিক স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকে ডেকে ঘটনার বর্ণনা দেন। ইউপি সদস্য তাকে আইনগত পদক্ষেপের জন্য থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি ওই দিনই থানায় গিয়ে শামীম হোসেন ও তার বড় ভাই শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ওই রাতে থানার এসআই আবু বক্কার সিদ্দিকী শামীমের বাড়িতে এসে থানায় যাওয়ার কথা বলে চলে যান। পরে মোবাইল ফোনে তাদেরকে পরদিন বৃহস্পতিবার থানায় আসতে বলেন। তারা থানায় গেলে আসামীপক্ষ হাজির না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার সকালে ফের থানায় আসার কথা বলে তাদেরকে চলে যেতে বলেন এসআই আবু বক্কার। শুক্রবার থানায় গেলেও আসামীপক্ষ হাজির না হওয়ায় ফের পরদিন শনিবার থানায় আসার কথা বলেন। শনিবার থানায় গেলে অভিযুক্ত শামীম গ্রামের বাইরের লোকজন নিয়ে থানায় হাজির হন। এক পর্যায় এসআই বক্কারের উপস্থিতিতে তার ছেলেসহ স্বামীকে মারধর করে থানা থেকে বের করে দেয় শামীমের সাথে আসা লোকজন।
বাড়িতে এসে ক্ষোভে-দুঃখে মেয়ে (ভিকটিম) আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তারা এখন বিবাদিপক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভ’গছেন।
জানতে চাইলে এসআই আবু বক্কার বলেন, দ্ইু পক্ষকে থানায় ডেকে মিমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষের গোলযোগের কারনে ভেস্তে যায়।
থানার অফিসার ইনচার্জ নূর-ই আলম সিদ্দিকী ছুটিতে থাকায় ওসি (তদন্ত) গাজী মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভিসয়টি তিনি নিজে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ