শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে পৃথক দুই মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড

আরো খবর

যশোর:
যশোরে পৃথক দুই মাদক মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার পৃথক দুই আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে সাজা প্রদান করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। যশোরের স্পেশাল জজ মোহাম্মদ সামছুল হক ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা জাহাঙ্গির এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বেনাপোল আমড়াখালী গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও শার্শা উপজেলার বারোপোতা গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে শামীম হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা ও এপিপি খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ৩১ মে ভোর পাঁচটার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানতে পারে সীমান্ত থেকে মাদক নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ছুটিপুর হয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে আসছে। কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালায়। তারা দত্তপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। কিছু সময়ের মধ্যে একটি পিত্তি রঙ্গের প্রাইভেট কার আসে। ওই প্রাইভেটকারটি থামানোর সংকেত দিলে কারটি না থামিয়ে দ্রুত চালিয়ে যায়। পুলিশ ওই গাড়ির পিছু নিয়ে এক পর্যায় নারাঙ্গালী গ্রামে যেয়ে গাড়িসহ নজরুলকে আটক করে। এসময় ওই গাড়িতে থাকা আরও তিনজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাসি করে গাড়ি পেছনের ডালা থেকে এক হাজার পিছ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য তিন লাখ টাকা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এসআইকামরুজ্জামান বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ৩১ আগষ্ট এসআই সাব্বিরুল ইসলাম নজরুল ও বেনাপোালের দিঘির পাড় এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে বাবুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সর্বশেষ সোমবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষনা করেন। রায়ে নজরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন এবং একই সাথে অপর আসামি বাবুলকে খালাস প্রদান করেন।
আদালতের অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাত আটটার পর শার্শা থানা পুলিশের কাছে খবর আসে নাভার-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ভুট্টর হোটেলে সামনে এক ব্যক্তি হেরোইন নিয়ে সাতক্ষীরাগামি বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমকে আটক করে। পরে তার হাতে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে ছয়শো গ্রাম হোরোইন উদ্ধোর করা হয়। যার দাম ধরা হয় ৬০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় শার্শা থানার এসআই ইমরুল হুসাইন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ এসআই শ্রী কানু চন্দ্র বিশ্বাস শামীমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমাদেন। সোমবার এ মামলার রায় ঘোষনার দিনে আদালত শামীমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। #

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ