একাত্তর ডেস্ক:
ওসি প্রদীপ দম্পতির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তটেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি, বাড়ি ও গাড়ি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদ এই আদেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, ‘অবৈধভাবে অর্জিত প্রদীপ দম্পতির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদক বিধিমালা ১৮ (ঙ) ধারায় প্রদীপ-চুমকির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’
আদালত সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিবেচনায় উক্ত আইনের ৪(৩) ধারায় চুমকি কারণের মালিকানাধীন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় অবস্থিত এক কোটি ৩৯ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকার জমি, একই স্থানে অবস্থিত ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা মূল্যমানের সেমিপাকা ঘর, কক্সবাজারের ১২নং ওয়ার্ডের ঝিলংজা ভবনের ১১ তলায় অবস্থিত ১২ লাখ পাঁচ হাজার ১৭৫ টাকার ফ্যাট, ২২ লাখ ৮২ টাকা মূল্যমানের মাইক্রোবাস (চট্টমেট্রো চ-১১-৬১১১) ও প্রাইভেটকার (চট্টমেট্রো ঘ-১১-৯২৩১) রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দুদকের করা মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে ২০ বছর এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চারটি ধারায় রায় দেওয়া হয়।
এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় প্রদীপ কুমার দাশকে খালাস দেওয়া হয়। এ ধারায় স্ত্রী চুমকি কারণকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে একমাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭ (১) ধারায় প্রদীপ কুমার দাশ এবং চুমকি কারণকে আট বছর কারাদণ্ড; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) (৩) ধারায় উভয়কে ১০ বছর করে কারাদন্ড এবং চার কোটি টাকার অর্থ দণ্ড এবং অনাদায়ে দুই বছর করে কারাদন্ড; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় দুজনকে দুই বছর করে করে কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন এ মামলা করেন।
মামলায় তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের এক সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন চুমকি। গত ২৩ মে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আগেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন কক্সবাজার আদালত। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও দুদকের মামলায় তার স্ত্রী চুমকি কারণ এতদিন কারাগারেই ছিলেন।

