ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টার অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর ধরে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি কোয়ার্টার অবৈধভাবে করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বিনা ভাড়ায় এসব কোয়ার্টারগুলো ব্যবহার করছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের গাড়িচালক লিয়াকত আলী প্রভাব খাটিয়েই এসব করছে এমনটাই অভিযোগ মেডিকেল কলেজের একটি সূত্রের।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি কোয়াটারে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও অনিয়মিত শ্রমিকদের কোয়ার্টার ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন। তার গাড়িচালক লিয়াকত আলীর তাঁর নামে সুবিধা আদায় করেন এবং অবৈধভাবে তাদের সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন অবৈধভাবে সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাসুদ, আউটসোসিংয়ের রেকসোনা পারভিন, অনিয়মিত শ্রমিক মুখেশ হালদার, বাবুর্চি আবদুল আলিম, নয়ন কুমার ও রবিউল ইসলাম। এছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মামুন, ক্যাশের আব্দুল কুদ্দুস, পিসিআর ল্যাব সহকারী মোশাররফ হোসেন।
অন্যদিকে, ড্রাইভার লিয়াকত আলী চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী অথচ কোনকম ভাড়া না দিয়ে সরকারি চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টারে বসবাস করেন ছরের পর বছর। আবেদনপত্র ছাড়া এবং কোন নিয়ম না মেনেই একাধিক কোয়ার্টার দখলে রেখেছেন তিনি। এছাড়াও মেডিকেলের বিভিন্ন মালামাল আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে, কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি সামেক/সাত/শা-১/২০২২/৩০৬নং স্মারকে নোটিশ প্রদান করেছেন অধ্যক্ষ। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও কেউই কোয়ার্টার না ছাড়লেও কোন ব্যবস্থ গ্রহণ করেননি অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক মেডিকেল কলেজের একজন কর্মচারী জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নাম ভাঙিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারকে আর্থিক ক্ষতি করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে একাধিক সংবাদ পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তার নিয়োগ বাণিজ্যের অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর প্রচারিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত ২২জন সেবাকর্মীর সেবা মন্ত্রণালয় বহাল রাখলেও অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস সেই আদেশ অমান্য করে ছয়জন কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে বিচার চেয়ে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট তাদের আবেদন শুনেছেন এবং ভুক্তভোগীদের পক্ষে গত ৫ জুন ২২ তারিখে তাদেরকে পুর্নবহালের আদেশ দেন।
ডা: রুহুল কুদ্দুস বিরুদ্ধে হাসপাতালের বিভিন্ন ক্রয় কমিটি ও টেন্ডার যাচাই-বাচাই সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হওয়ায় মালামাল ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম রয়েেেছ। ছাত্র কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দ ও স্বেচ্ছাসেবকদের বরাদ্দসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ থেকে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

