অসীম বোস: কী হতে চলেছে যশোর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দ্বিধা বিভক্ত সংগঠন শক্তিশালী হবে? না যে ভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। সোমবার এমন প্রশ্ন এসেছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দ্বন্ধ দীর্ঘদিনের। সস্প্রতি তাতে ঘি ডেলে দিয়েছে ৩ উপজেলার আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা নিয়ে। এককভাবে কমিটি দেয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে আঙ্গল তুলেছেন খোদ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি। পরশু সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এককভাবে কমিটি দেয়ার এখতিয়ার সভাপতির নেই। তিনি যে কমিটি দিয়েছেন তা বৈধতা পাবেনা। তা হলে ওই ৩ উপজেলার কমিটির সর্বশেষ পরিনতি কি হবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। অবশ্য এর আগে সভাপতির স্বাক্ষর বিহীন অভয়নগর ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়েও রয়েছে এমন প্রশ্ন। ৩০ জুলাই মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যে কমিটি দেয়া হয়েছে সেখানে পারিবারিক করণ এবং ব্যাপক পক্ষ পাতিত্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীল মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলনের সাথে যোগাডোগ করা হলে তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলার সকল ইউনিট গঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এমপি ও সভাপতিকে না জানিয়ে অভয়নগর ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি প্রেসরিলিজের মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন,কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপি ও সংশ্লিষ্ঠ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে মণিরামপুর,ঝিকরগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলায় কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ঠ এলাকার এমপি ও সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে ৩ উপজেলার কমিটি দেয়া হয়েছে তার কোটির ১০ বছর আগে সম্মেলন, কোনটির ৪/৫ বছর আগে সম্মেলন হয়েছে। অথচ কমিটির মেয়াদ মাত্র ৩ বছর। তিনি বলেন, বিষয়টি কেন্দ্র পর্যন্ত গড়িয়েছে দেখা যাক সেখান থেকে কি ফয়সালা আসে।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিয়ার রহমান সাগরের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন,অভয়নগর ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় উপস্থাপন হয়। কিন্তু সভাপতি অনুমোদন দেননি। সর্বশেষ তিনি (সভাপতি) যে ৩ উপজেলার কমিটি দিয়েছেন তা কোন সভায় উপস্থাপন হয়নি। তিনি মনেকরেন, জেলা নেতৃত্বে অনেক সমন্বয়ের অভাব আছে। যেকারণে এসব হচ্ছে। সাগর বলেন, শাহীন চাকলাদার দীর্ঘ দিন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গঠনতন্ত্রে বাইরে এক পাও চলবেন না। সবমিলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চরম প্রতিকুলতার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন আগামী সংসদ নির্বাচনের পুর্বে দলীয় কোন্দল নিস্পত্তি না হলে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে প্রচীনতম এই দলটির। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে যশোরে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান দলীয় হাই কমান্ড। সেই লক্ষে আজ সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ঢাকায় বসছেন কেন্দ্রীয় সাংগনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। সভায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি সোমবার দুপুরে ঢাকায়া গিয়েছেন। ওই সভায় জেলার ৬ এমপি,সকল ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

