রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলো প্রশ্নবিদ্য ৫ কমিটি

আরো খবর

 

বিশেষ প্রতিনিধি
শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত যশোর পৌরসহ ৪ উপজেলার আওয়ামী লীগের কমিটি। মঙ্গলবার ঢাকায় সাংগঠনিক সম্পাদকের ডাকা সভা থেকে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খবর সংশ্লিষ্ঠ সুত্রের।
সভা থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনের সকল স্তরের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, নাসির উদ্দিন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, সহ-সভাপতি আব্দর মজিদ, সাইফুজ্জামান পিকুল, আব্দুল খালেক, অ্যাড. আলী রায়হান, অ্যাড, আহসান উল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সদও উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড আসাদুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পাল্টা পাল্টি কমিটি দেয়ায় তীব্র আকার ধারণ করে জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নালিশ পাল্টা নালিশ অব্যাহত থাকায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। যা শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত গড়ায়। এই অবস্থা নিরসনে সংগঠনের খুলনা বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক জরুরীভাবে জেলার সিনিয়র নেতাদের ঢাকায় তলব করেন। বিকালে ধানমন্ডিস্থ নিজস্ব অফিসে দু’পক্ষের নেতাদের নিয়ে বসেন তিনি। সেখানে ওঠে আসে নেতৃত্ব বিরোধের নানা কথা। তবে আলোচনায় প্রাধান্য পায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তৃর্ণমূলে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে সকল দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে যাওয়ার আহবান জানান বিএম মোজাম্মেল হক। একই সাথে গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করায় যশোর পৌর,অভয়নগর,মণিরামপুর,ঝিকরগাছা ও বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কমিটি বাতিল হলেও ইতোপুর্বে সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাদের নাম ঘোষনা করেছেন তারা বহাল থাকবেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সমন্বিতভাবে জেলার সকল ইউনিটের নতুন করে কমিটি দেয়া হবে বলে জানান শহিদুল ইসলাম মিলন। তবে ভিন্ন কথা বলেছেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু। তিনি প্রজন্ম একাত্তরকে বলেন, সভায় ৩০ জুলাই সভাপতি স্বাক্ষরিত ৩ উপজেলার যে কমিটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে তা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত পৌর আওয়ামী লীগ ও অভনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ব্যাপারে বিশেষ আপত্তি না থাকায় উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষ কিছু পদে রদবদল করা হবে। এব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা বা পৌর ইউনিটের কমিটির তালিকা চুড়ান্ত করার ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদক,সংশ্লিষ্ঠ এলাকার সংসদ সদস্য এবং জেলা কমিটির যদি কেউ থাকেন তাদের সমন্বয় বা মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, জেলার ৫ ইউনিটের আওয়ামী লীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন প্রশ্নবিদ্য হওয়ায় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হোসেন উভয় পক্ষের নেতাদেও উপস্থিতিতে তা বাতিল করে দিয়েছেন। শোকাবহ আগস্ট মাসের পর গঠনতন্ত্র মেনে সকল ইউনিটের পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের মুজিবুদ্দৌলা সরদার কনক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞিপ্তিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যশোর জেলাধীন কয়েকটি উপজেলা শাখার পুর্নাঙ্গ কমিটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। উল্লেখিত কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র যথাযতভাবে অনুসরণ না করায় নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃস্টি হয়। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি অবসানের লক্ষে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের আহবানে যশোর জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রতিমন্ত্রী, ৩ জন সংসদ সদস্য এবং উপজেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও ফেসবুকে প্রকাশিত কমিটি বাতিল করা হয়েছে। শোকের মাস আগস্টের পরে সেপ্টেম্বর মাসে গঠনতন্ত্র মোতাবেক পুর্নাঙ্গ কমিটি করা হবে। এ বিষয়ে কোন রকম অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করা হলো।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ