বিশেষ প্রতিনিধি
যশোর শহরের যে কয়টি প্রসিদ্ধ স্থান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মণিহার বাস স্ট্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ যাকে এক নামে চেনে। ৮০ দশকে যখন সিনেমার রমরমা ব্যবসা সেই সময় দেশের প্রথম শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এই প্রেক্ষা গৃহটি তৈরি করেছিলেন খুলনার সিরাজুল ইসলাম। তিনি আজ নেই কিন্তু তার স্মৃতি এখনও মানুষের মুখে মুখে। মণিহারের নামেই নামকরণ হয়ে গেছে প্রাচীনতম এই বাস ষ্টান্ডটি। যার সামনে রয়েছে দুটি ঐতিহাসিক সড়ক। যার একটি ঢকা-খুলনা মহা সড়ক এবং অপরটি যশোর-নড়াইল সড়ক। আরো অনেক সংযোগ সড়ক এর সাথে যুক্ত। বৃহৎ এই দুই সড়কের মাঝখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বিজয় স্তম্ভ। যেখানে মুক্তি যুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সড়কের পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠনসহ আবাসিক হোটেল। যার মধ্যে খুলনা মহাসড়কের পশ্চিম পাশ জুড়ে রয়েছে দেশের বৃহত্তর ফলের মোকাম। নানা বিবেচনায় এলাকাটি খুবই জনগুরুত্বপুর্ণ। সুপরিচিত এলাকাটি এখন আর আগের মত নেই। সব থেকে বাজে অবস্থা খুলনা মহা সড়কের মণিহার অংশ। একটু বৃস্টি হলেই যেখানে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। সড়কটির প্রায় সিকি কিলোমিটার অংশ খানা খন্দ হয়ে গেছে। সড়কের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সড়কের এই বেহাল দশায় তারা সারা বছর যন্ত্রণায় থাকেন। শুনি সড়ক উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর কাড়ি কাড়ি টাকা দিচ্ছে কিন্তু তা যাচ্ছে কোথায়? মাত্র এটুকু সড়ক উন্নয়ন করতে কত টাকা লাগে? সড়কের এই বেহাল অবস্থার জন্য দিনের বেশীর ভাগ সময় এখানে যানজট লেগে থাকে। এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,মণিহার থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। তিনি আশা করেন, মেগা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মণিহার অংশে সড়কের বেহাল অবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন। প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রায় দু’বছর ধরে চলছে প্রকল্পের কাজ। এ র আগেও কয়েকবার এই সড়কের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই কিন্তু চেহারা বদলায়নি।

