রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 নওয়াপাড়া  নৌবন্দরের  অবৈধ ৬৫ টি জেটি উচ্ছেদ করলো বিআইডব্লিউটিএ 

আরো খবর

অভয়নগর প্রতিনিধি
অভয়নগরে ভৈরব নদীর ভেতর ইট, বালু, মাটি ও গাছ ফেলে নির্মাণ করা আরো ১৬টি অনুমোদনহীন অবৈধ জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুধবার  অভিযানের শেষ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এর আগে তিন দফা (১০, ১১ ও ১৬ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে ৪৯টি জেটি উচ্ছেদ করা হয়। এ নিয়ে চার দিনের অভিযানে ছোটবড় ৬৫টি জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
নওয়াপাড়া নদী বন্দর অফিস সূত্র জানায়, বুধবার অভিযানের শেষ দিনে মহাকাল গ্রামে মক্কা সিমেন্টের ঘাটে একটি, একই গ্রামে এআর সিমেন্টের একটি, ভাঙ্গাগেট এলাকায় বেগের একটি, একই এলাকার ডলার ঘাটের একটি, রাজের দুটি, লেন্টুর একটি, সরদার মিল ঘাটের একটি, নওয়াপাড়া পাঁচকবর এলাকায় হক সিমেন্টের একটি, মোসলেম হোসেনের একটি, শংকরপাশা গ্রামে বাঘা সাহেবের দুটি, একই গ্রামে নাসির এন্ড ব্রাদার্সের দুটি, নওয়াপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন মাহাবুব ব্রাদার্সের একটি ও সাইদুর রহমানের একটি মোট ১৬টি জেটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১০, ১১ ও ১৬ আগস্ট তিন দিনের অভিযানে ৪৯টি জেটি উচ্ছেদ করা হয়। চার দিনের অভিযানে ৬৫টি জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন অবৈধ ৬০টি জেটি চিহ্নিত করা হলেও অভিযান চলাকালে নতুন আরো ৫টি জেটি পাওয়া যায়। চার দিনের অভিযানে ৬৫টি জেটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ করা জেটির মত পুনরায় মাটি ভারাট ও নদী দখল করে জেটি নির্মাণ করলে ঘাট মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ ঘাটের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। ভৈরব নদী ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী, নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ, নওয়াপাড়া নৌপুলিশ, সাংবাদিক ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
জানা গেছে, অভয়নগরে নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটারের মধ্যে মোট ১৪৫টি ছোটবড় ঘাট রয়েছে। এই ঘাটগুলোর মধ্যে অনুমোদনহীন ৬৫টি অবৈধ জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও ঘাট মালিক নদীর ভেতর ইট, বালু, মাটি ও গাছ ফেলে এসব জেটি নির্মাণ করেছেন। যে কারণে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। প্রায় ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ