রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে নৈশ প্রহরী হত্যার রহস্য উদঘাটন; মোবাইল উদ্ধার; আটক ২

আরো খবর

 অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প, বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদীর তীরবর্তী সরকার গ্রুপের ঘাটের অফিস কক্ষে নৈশ প্রহরীকে খুনের রহস্য উম্মোচন করেছে যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দুই দিনের ব্যাবধানে ক্লুলেস এ হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করলেন তারা। সেই সাথে হত্যাকান্ডের জড়িত দুই যুবককে আটক করেছে পিবিআই। এবং নিহত নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের দুইটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে তারা। জানাগেছে, নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের লাশ উদ্ধারের পর থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর রবিবার রাতে অভয়নগর থানায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মামলার সূত্র ধরে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের একটি টিম ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তারা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহত নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সন্ধান পান। সে মোতাবেক খুলনা নিউমার্কেট সংলগ্ন বাইতুন নূর জামে মসজিদ মার্কেটের স্মার্ট মোবাইল সপের কর্মচারী আব্দুল্লাহ সানাম খানের নিকট থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। এবং আব্দুল্লাহ সানাম খানের দেয়া তথ্যমতে পিবিআই গত ২১ আগস্ট গভীর রাতে মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নড়াইল জেলার বিছালী ইউনিয়নের রূখালি গ্রামের ইনতাজ বিশ্বাসের ছেলে রায়হান বিশ্বাস (১৯) এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাফিজুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান(১৯) কে আটক করে। আটককৃতরা উভয়ে খুলনার ফুলতলা উপজেলার আইয়ান জুট মিলের শ্রমিক বলে পিবিআই সূত্র জানিয়েছে। এসময় তাদের দেয়া তথ্য মতে গাংনি থানার আতাউল সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে নিহত নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের ব্যবহৃত অপর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করে। গতকাল ২২ আগস্ট আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আটককৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআইসূত্র জানায়, তারা মোবাইল ফোন চুরির উদ্দেশ্যেই নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারকে খুন করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই যশোরের এস আই মিজানুর রহমান হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আসামী আটক ও মোবাইল উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে আটককৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছেন, আটককৃত দু’জনই এলাকায় ছিচকে চোর হিসেবে পরিচিত। তারা চুরির পরিকল্পনা করে নৈশ্য প্রহরী মিন্টু তরফদারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। এক পর্যায়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা দু’জনই নিহত মিন্টু তরফদারের সাথে ঘাটের অফিস কক্ষে রাত কাটাতে চায়। মিন্টু তরফদার রাজি হলে তারা রাত ৯ টায় ওই অফিস কক্ষে যায় এবং দীর্ঘসময় গল্প করার পর ঘুমিয়ে পড়ার ভান করে। এক পর্যায়ে মিন্টু ঘুমিয়ে পড়লে তারা তাকে হত্যা করে মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তালতলা এলাকায় আকিজ জুট মিলের সামনে সরকার গ্রুপের ঘাটের অফিসের ভেতর থেকে নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রক্তাক্ত মরদেহটি অফিস কক্ষের ভিতর গলায় গামছা প্যাচানো অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে ছিলো। নিহত মিন্টু তরফদার উপজেলার চেঙ্গুটিয়া বুড়োর দোকান এলাকার মৃত- মুসা তরফদারের ছেলে। গত ৪ বছর আগে তিনি বেঙ্গল টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন মডেল কলেজের পার্শ্বে বাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন।  তিনি সরকার গ্রুপের ওই ঘাটে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ