রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চৌগাছা কংশারীপুর মহা শ্মশানের মাটি কেটে ভরাট হচ্ছে ডিভাইনের কোল্ড স্টোর: পূজা পরিষদের উদ্বেগ

আরো খবর

 

শ্যামল দত্ত : যশোরের চৌগাছায় কংশারিপুর মহা শ্মশানের মাটি কাটা নিয়ে ঘটেছে তুলকালাম কান্ড। মহাশ্মশানের সমাধী ও চিতা ৫০টির বেশি কঙ্কাল সহ মাটি নিয়েছে ডিভাইন গ্রুপ। আর এতে মৃতের দেহ সৎকার করতে গিয়ে পড়তে হয়েছে চরম বিপাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষেভের সঞ্চার হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নিরব ভুমিকায়। উদ্বেগ জনক এই পরিস্থিতিতে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার রাতের আঁধারে জেটি কল দিয়ে কংসারিপুর মহাশ্মশানের নিজস্ব জায়গা থেকে মাটি কাটা হয়। পরে ওই মাটি দিয়ে ভরাট করা হয় ডিভাইন গ্রুপের কোল্ড স্টোরের নিচু জায়গা। মাটির সাথে মহাশ্মশানের সমাধী ও চিতা এবং ৫০টির বেশি কঙ্কাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কংসারিপুর , তাননিবাস ও টেংগুরপুর গ্রাম নিয়ে মহাশ্মশানটি অবস্থিত।
শনিবার টেংগুরপুরের এক বৃদ্ধা স্টোকে মৃত্যুবরণ করেন । তিনার সমিধী দেওয়ার জন্য জায়গাটুকু পাওয়া যায়নি। এই ঝটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী শনিবার সকালে বৃদ্ধার লাশ সহ মিছিল করে। মিছিল নিয়ে চৌগাছা ভাস্কর্য মড়ে পৌছুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার , সরকারি কমিশনার(ভূমি)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা থামিয়ে দেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা মিছিলকারীদের মহাশ্মশানে ৩ দিনের ভিতর মাটি ভরাট করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।
সুত্র জানায়, শ্মশান থেকে রাতের আধাওে মাটি কাটায় সেখানে পুকুরের মত গর্ত হয়ে গেছে।
রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন আচার্য, কোষাধ্য শুভাশিস ভট্টাচার্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, গণ সংযোগসম্পাদক উৎপল ঘোষ, উপজেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, আইন বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, পৌর পূজার জন পরিষদের সভাপতি অশোক হালদার, সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায়, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য অনন্ত সরকার সহ স্থানীয় সনাতন ধর্ম জনসাধারণ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতৃবন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান ড, মোস্তানিছুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুপা সুলতানার সাথে সাক্ষাত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। এব্যাপারে ডিভাইন গ্রুপের ম্যনেজার সাগর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ” আমরা মাটি কাটি না মাটি কিনি। মাটিকুমড়ির রানা তাদের কাছে ওই মাটি বিক্রি করেছেন। শশ্মানের চিতার মাটি কাটার পর কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জান্তে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দেন। এব্যাপারে মোবাইল ফোনে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শশ্মানের মাটি কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন প্রজন্ম একাত্তরকে বলেন, শুধু কংশারীপুর মহা শ্মশান নয় আশে পাশের গ্রামের আরো কয়েকটি শশ্মান জবর দখল হচ্ছে। তার মধ্যে কংশারীপুরের ঘটনা ভয়াবহ। আমরা সেখানকার প্রশাসনের সাথে দেখা করে ৪ দিনের আলটিমেটম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ