নিজস্ব প্রতিবেদক :
শনিবার যশোরের নাটোয়া পাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো সমন্বিত প্রবীণ ও শিশু নিবাস ‘আমাদের বাড়ি’। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এই বাড়ি উদ্বোধন করেন। এ সময় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এক সময়ের অচেনা বাংলাদেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাবিশ্বের কাছে নিজেদের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেশের উন্নয়ন উৎপাদনে সারাবিশ্বকে চমকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন জনগণকে জমি ও গৃহ প্রদান করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বুকে ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্বাধীনতা বিরোধীচক্রদের সমালোচনা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আজকের তরুণ প্রজন্মই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর চেতনার ধারক ও বাহক। এ চেতনাকে ধারণ করে তারাই একদিন গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, অত্যন্ত সজ্জন মানুষ প্রফেসর ডা. এম এ রশীদ। তিনি বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি সম্মান রেখেই তার নিবাসের নাম রেখেছেন, তাদের কল্যাণে তৈরি করেছেন ‘আমাদের বাড়ি’। এত বড় কর্মযজ্ঞে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই নিবাসে দরিদ্র মানুষ থাকা, খাওয়া, চিকিৎসাসহ লেখাপড়া ও কর্মমুখি শিালাভ করতে পারবে। এটি আমাদের জন্য অত্যান্ত গর্বের ব্যাপার। প্রতিমন্ত্রী এই নিবাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সড়কে সোলারবাতি দিয়ে সড়কগুলো আলোকিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম।
‘আমাদের বাড়ি’র স্বপ্নদ্রষ্টা জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর ডাক্তার এমএ রশিদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ‘আমাদের বাড়ি’ আঙিনায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি ও অন্যান্য অতিথিরা সমন্বিত প্রবীণ ও শিশু নিবাসটি ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে প্রায় ২ একর জমির ওপর ৪ তলাবিশিষ্ট ভবনটিতে ১৫০ জন বসবাস করতে পারবেন। নির্মাণ ব্যয়ের ৮০ শতাংশ সরকারের এবং ২০ শতাংশ জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের। সরকারের সাথে চুক্তি অনুযাযী ৩০ ভাগ প্রবীণ ও শিশুকে এখানে বিনামূল্যে রাখা হবে। ৭০ ভাগ থাকতে পারবেন যৌক্তিক মূল্যে।#

