শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচন দু’সদস্য প্রার্থীর মধ্যে মল্লযুদ্ধ, কারন দর্শানোর নোটিশ

আরো খবর

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটুর প্রস্তাবক ও সমর্থকসহ ৪জনকে মারধর ও দু’সদস্য পদপ্রার্থীর মধ্যে মারপিটের (ঘুষোঘুষির) ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৬-৭জন লাঞ্চিত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফকরুল হাসান, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী নেতা অ্যাডভোকেট সোহবার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. অচিন কুমার চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ওমর ফারুকসহ আ’লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শি ও লাঞ্ছিত ব্যক্তিরা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের কাজ চলছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী খোকন কুমার সাহা এবং অপর প্রার্থী মোঃ ওবায়দুর রহমান দুজনই তালা প্রতীক দাবি করাকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি এবং এক পর্যায়ে একে অপরের সাথে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হন। এর কয়েক মিনিট পর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধনসহ ছাত্রলীগ সমর্থিত সাদি, জয়, পারভেজসহ একদল যুবক সম্মেলন কক্ষে ঢুকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটুর প্রস্তাবকারী শরিফুল ইসলাম ও সমর্থনকারী সৈয়দ নওয়াব আলীসহ কয়েকজনকে কিল-ঘুষি ও চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। তখন কিছু সময় প্রতীক বরাদ্দের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি এবং অপর প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর পক্ষে তার সমর্থক প্রতীক হিসেবে আনারস দাবি করি। তখন আমার লোকদের সাথে লিটুর সমর্থকদের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাংখিত উল্লেখ করে বলেন, প্রতীক আনতে যাওয়া আমার প্রস্তাবকারী মোঃ শরিফুল ইসলাম ও সমর্থনকারী সৈয়দ নওয়াব আলীসহ ৪জনকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে নিতে এ ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
সদর থানার ওসি (চলতি দায়িত্বে) মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে সামান্য অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন হামলা ও মারামারির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশে প্রায় আধা ঘন্টা প্রতীক বরাদ্দের কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার শুরু করা হয়।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফকরুল হাসান বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাংখিত। আমরা ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী খোকন কুমার সাহা এবং অপর প্রার্থী মোঃ ওবায়দুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে ২৪ঘন্টার মধ্যে জবাব দিতে হবে। জবাব পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ