মানবপাচারর মামলার দিক থেকেই ঢাকার পরেই যশোরে সবচেয়ে বেশি মামলা। কিন্তু এখানে ট্রাইব্যুনাল না থাকায় মামলাগুলোর বিচারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে যশোরে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি উঠেছে।
বৃহষ্পতিবার বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে অয়োজিত এক কর্মশালায় এই দাবি তুলেছেন যশোরের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ‘মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা’ বিষয়ক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরিফুল হাসান।
অনুষ্ঠানে জাহিদ হাসান বলেন, মানুষজন অধিকাংশ সময় মানবপাচার আর বিদেশে যাওয়া বোঝে না। অনেক সময় স্বেচ্ছায় তারা যান। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে মুল শ্রমশক্তিতে রপান্তরিত হতে হবে।
এস এম তৌহিদুর রহমান বলেন, পাচারের অপরাধগুলোর বিচার করতে হবে। মামলাগুলো ঝুলে থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষজন যেন বিচার পায়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরিফুল হাসান বলেন, যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনেক নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। আজকাল পাচারকারীরা ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করছে। আসলে কারো একার পক্ষে পাচার প্রতিরোধ করা কঠিন। সবাই মিলে সেই কাজটি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাইটস যশোরের প্রতিনিধি বাদশা মিয়া, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রতিনিধি শাহনাজ পারভীন ও এম এম রেজা, সলিডরিটারি সেন্টারের শামসুন নাহার, বাসা এন্ট্রারপ্রাইজ লিমিটডের কাউন্সিলর খুরশিদা খানম, জাগরণী ফাউন্ডেশনের ইমতিয়াজ আহমেদ, ব্যুরো বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আল আমিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের যশোরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গ্রামের কাগজের বার্তা সম্পাদক সারোয়ার হোসেন, মাজের কথার বার্তা সম্পাদক মিলন রহমান, নিউ এজের সাইফুর রহমান, প্রথম আলোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের জেলা ব্যবস্থাপক দেবানন্দ মন্ডল অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা ব্র্যাক সমন্বয়ক আলমাছুর রহমান। এছাড়া ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তৌসিফ আহমদ কোরেশি, ব্যবস্থাপক সামাউল হক, সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম, ট্রেনিং অফিসার আজিমুল হক, কাউন্সিলর নাঈমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকে বিভিন্ন কর্মসূচিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কর্মসূচি হল মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। দেশের অভিবাসন ও পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নিরাপদে অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে ব্র্যাক। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরে আন্তঃসীমান্তে মানবপাচার ঝুঁকি কমানোর জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তাসহ নানা কার্যক্রম চলছে।
