বিশেষ প্রতিনিধি: আজ থেকে সারা দেশে একযোগে ২০২২ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীা শুরু হচ্ছে। এই পরীায় মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ পরীার্থী অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন। মোট ৯ হাজার ১৮১টি শিা প্রতিষ্ঠান থেকে এসব পরীার্থী পরীায় অংশ নেবে। এ বছর মোট দুই হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্রে পরীা অনুষ্ঠিত হবে।
মোট ১১টি শিা বোর্ডের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিা বোর্ডের অধীনে এবার দুই হাজার ৬৭৮টি শিা প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীায় অংশ নেবে মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৩ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৫৩০ জন। মোট এক হাজার ৫২৮টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীা অনুষ্ঠিত হবে।
মাদ্রাসা শিা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীায় মোট পরীার্থী ৯৪ হাজার ৭৬৩ জন অংশ নেবে। এরমধ্যে ছাত্র ৫১ হাজার ৬৯৫ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৮ জন। মোট দুই হাজার ৬৭৮টি শিা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীার্থীরা অংশ নেবে। এবার আলিম পরীা অনুষ্ঠিত হবে মোট ৪৪৮টি কেন্দ্রে।
কারিগরি শিা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীায় মোট এক লাখ ২২ হাজার ৯৩১ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৮৮ হাজার ৯১৮ জন এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ১৩ জন। মোট ১ হাজার ৮৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা পরীায় অংশ নেবে। এবার কারিগরি শিা বোর্ডের অধীনে মোট ৬৭৩টি কেন্দ্রে পরীা অনুষ্ঠিত হবে।
সাধারণ শিা বোর্ডগুলোয় তত্ত্বীয় পরীা আগামী ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৩ ডিসেম্বর শেষ হবে। আর ব্যবহারিক পরীা ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২২ ডিসেম্বর শেষ হবে। পরীা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে।
গত ১৯ অক্টোবর পরীা সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘পরীা শুরুর কমপে ৩০ মিনিট আগে পরীার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনও পরীার্থীকে এরপরে প্রবেশ করতে দিলে তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট শিা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে। পরীা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
যশোর বোর্ড: গত বছরের তুলনায় যশোর শিা বোর্ডের অধীনে পরীার্থী কমেছে ২৭ হাজার ৪৫৪ জন। গত বছর পাসের হার বেশি থাকায় এ বছর অনিয়মিত পরীার্থীর সংখ্যা কম। যার কারণে পরীার্থী কমেছে বলে জানান যশোর বোর্ডের পরীা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র।
তিনি বলেন, গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে যশোর বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৭ জন পরীার্থী। এ বছর অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৭০৯ জন পরীার্থী।
১ লাখ ৭০৯ জন পরীার্থীর মধ্যে খুলনা জেলা থেকে অংশ নেবে ১৯ হাজার ৯৭৩ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ১০ হাজার ৫৯২ জন, মেয়ে ৯ হাজার ৩৮১ জন। বাগেরহাট জেলা থেকে অংশ নেবে ৭ হাজার ৪৮ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৩ হাজার ৩১৬ জন ও মেয়ে ৩ হাজর ৭৩২ জন। সাতীরা জেলা থেকে অংশ নেবে ১১ হাজার ৯১৫ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৪৮৮ জন, মেয়ে ৬ হাজার ৪২৭ জন। কুষ্টিয়া জেলা থেকে অংশ নেবে ১১ হাজার ৪৬৫ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৫ হাজার ৩১৪ জন, মেয়ে ৬ হাজার ১৫১ জন। চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে অংশ নেবে ৫ হাজার ৮৯৫ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ২ হাজার ৮৯১ জন, আর মেয়ে ৩ হাজার জন। মেহেরপুর জেলা থেকে অংশ নেবে ৩ হাজার ৪৩০ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৬৫৩ জন, মেয়ে ১ হাজার ৭৭৭ জন। যশোর জেলা থেকে অংশ নেবে ১৮ হাজার ৫৭২ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৯ হাজার ৭৪৮ জন, মেয়ে ৮ হাজার ৮২৪ জন। নড়াইল জেলা থেকে অংশ নেবে ৪ হাজার ৮০৮ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ২ হাজার ৩২৩ জন, মেয়ে ২ হাজার ৪৮৫ জন। ঝিনাইদহ জেলা থেকে অংশ নেবে ১২ হাজার ৯৪ জন পরীার্থী। এরমধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৩৭৩ জন, মেয়ে ৫ হাজার ৭২১ জন। মাগুরা জেলা থেকে অংশ নেবে ৫ হাজার ৫০৯ জন পরীার্থী। এর মধ্যে ছেলে ২ হাজার ৭১০ জন, মেয়ে ২ হাজার ২৯৯ জন
ইতিমধ্যে বোর্ড থেকে অনলাইনে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড পেয়েছেন কলেজ কর্তৃপ। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পরীার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিকরা।
এ বিষয়ে পরীা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র্র বলেন, ২০২২ সালে তিনটি বিষয়ের উপর পরীা হয়। তাতে বেশির ভাগ পরীার্থী পাস করে। পাসের হার ছিলো ৯৮ শতাংশ। যার জন্য এ বছর পরীার্থী কমেছে। কারণ, গত বছর পাসের হার কম থাকলে এবার অনিয়মিত পরীার্থী বেশি থাকতো । এছাড়া করোনার কারণে অনেকে হয়তো অনত্র স্থানান্তর হয়ে থাকতে পারে, কিংবা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো কর্মে নিয়োজিত হয়েছেন। এসব বিভিন্ন কারণে পরীার্থী কমতে পারে।#

