শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি তেল পাচার রোধে সীমন্তে বিজিবি নজরদারি

আরো খবর

 

 

বেনাপোল:
ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য কম হওয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে তেল।বাংলাদেশে ঢুকেই ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বন্দরে খালাস করে ভর্তি করে নেওয়া হতো তেলের ট্যাঙ্কি।সক্রিয় পাচারচক্র।ভারতীয় ট্রাকে পাচার হচ্ছে জ্বালানি তেল এমন সংবাদে নড়েচড়ে বসেছে বিজিবি ।সীমান্তের জিরো লাইনে কঠোর নজরদারী করছেন তারা।
দেশে ডিজেলের চাহিদা মেটানো হয় বিদেশ খেকে আমদানি করে,দেওয়া হয় ভর্তুকি।এই তেল ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।বাংলাদেশে ডিজেলের দাম যখন ৬৫ টাকা তখন ভারতে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১০২টাকায়।৩নভেম্বর বাংলাদেশে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে ৮০টাকা করা হয়।এসময় ভারতে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ রুপিতে।এর ফলে পাচারকারীদের প্রতি লিটারে লাভ হয় ১৪থেকে ১৭টাকা। ফলে ভারতীয় ট্রাক চালকরা গাড়িতে করে তেল পাচার করছে। বেনাপোল বন্দর এলাকায় গড়ে ওঠে সক্রিয় পাচার চক্র,ভারতের অধিকাংশ ট্রাক চালকরা এদেশের কিছু অসাধু লোকের যোগ সাজসে তেল নিয়ে যাচ্ছ ভারতে।প্রতিরোধে৩১ অক্টোবর থেকে আমদানি গেইটে এবং ট্রাক বের হওয়ার গেইটে তেলের ট্যাঙ্কিতে ‘কী পরিমান তেল আছে’ তা স্কেল দিয়ে পরিমাপ করে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।আবার পণ্য খালাসের পর ফেরত যাওয়ার সময় ওই ট্রাকের তেল পরিমাপ করে দেখা হচ্ছে। এই কার্যক্রম চালু করেছে বিজিবি।

যশোর ৪৯বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল সেলিম রেজা জানান,তেল পাচারের অভিযোগ উঠার পরই বিশেষ নজরদারী করা হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর আমদানি গেইটে ওই ট্রাকের তেলের ট্যাঙ্কিতে ‘কী পরিমান তেল আছে’ তা স্কেল দিয়ে পরিমাপ করে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।আবার পণ্য খালাসের পর ফেরত যাওয়ার সময় ওই ট্রাকের তেল পরিমাপ করে দেখা হচ্ছে।৩১ অক্টোবর থেকে আমদানি গেইটে এবং ট্রাক বের হওয়ার গেইটে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে তেল পাচারের বিষয়টিকে সর্বচ্চ গুরুত্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল সীমান্তের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,ওপারে জ্বালানি তেলের দাম বেশী হওয়ায় ভারতীয় ট্রাক চালকরা গাড়িতে করে তেল পাচার করত।একটি ১০চাকার ট্রাকের ট্যাঙ্কিতে ৪৫০লিটার তেল ধরে। প্রতিদিন এমন অন্তত ৪’শ ট্রাক পণ্য নিয়ে বেনাপোলে বন্দরে আসে। সীমান্ত এলাকার অনেক মুদি দোকানীসহ ছোট আচড়া এলাকার একটি অসাধু চক্র পাচারকাজে জড়িত বেলে জানান তারা। এ শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে কেহ কিছু বললে মিথ্যা মামলা হামলার ভয় দেখানো হয় বলে জানান তারা।

তেল সংগ্রহের কথা স্বীকার করে ভারতীয় ট্রাক চালক (ট্রাক নং ডব্লিউ-১৫বি-৬০০৭) শহিদুল্লাহ মন্ডল বলেন,ভারত থেকে যে তেল নিয়ে আসি তাতে হয়ে যায়। তবে কোন কারনে যদি কম পড়ে যায় তাহলে কারোর মাধ্যমে ১০/২০লিটারের মত তেল সংগ্রহ করি। আর যদি না পারি তাহলে বিএসএফকে বলে ওপার থেকে তেল নিয়ে আসি। বাংলাদেশী ট্রাক চালক সাইদুল ইসলাম ও কাদির হোসেন বলেন বিজিবি চেক করছেন এটা আমাদের দেশ ও জাতির জন্যভাল।তেলপাচারের সাথে জড়িতদের খুজে বের করারও দাবী জানান তারা।

অতিরিক্ত তেল নিয়ে কোন ট্রাক ভারতে ফিরছে কী না এমন প্রশ্ন করা হলে বিজিবির হাবিলদার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এখনও পর্যন্ত এমন কোন কিছু পায়নি।প্রতিটি ট্রাকের তেল পরিমাপ করে যাওয়ার পথে আমাদের পুর্বের সীট এর সাথে মিল করাচ্ছি। তাতে করে প্রতিটি ট্রাকে দুই পাঁচ লিটার করে কমই পাচ্ছি।
বেনাপোল স্থলবন্দর উপপরিচালক আব্দুল জলিল জানান,বন্দরে আসা ভারতীয় পণ্যবাহি ট্রাকের মাধ্যমে যাতে তেল পাচার হতে না পারে সেজন্য প্রবেশ ও ত্যাগের সময় বিজিবি তেলের পরিমান এন্ট্রি করছেন।এব্যাপারে বিজিবির পাশাপাশি বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদেরাকেও সতর্ক রাখা হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিসিয়ালি কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানান তিনি।
তেল পাচাররোধে-বন্দর এলাকার বাহিরেও বিজিবিকে আরো কঠোর নজরদারীর আহব্বান জানান বন্দর ব্যাবহারকারীরা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান বিজিবির ই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান তারা। তেল পাচাররোধে ব্যাবসায়িরাও সজাগ রয়েছে।

 

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ