শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পিতার বিক্রিত জমি ফেরৎ নিতে ছেলের বিরুদ্ধে শিক্ষক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

আরো খবর

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ কেশবপুরের পাত্রপাড়া গ্রামে পিতার নিকট থেকে জমি
কিনে ছেলে বছির উদ্দিনের হয়রানির শিকার হ”েছন শিক্ষক নুরুজ্জামান মাসুদসহ তার
পরিবার।
জানা গেছে, উপজেলার হিজলতলা গ্রামের মৃত মানিক সরদারের ছেলে ইসমাইল
হোসেনের ৫৫ দাগের ১০ শতক জমি ১৯৮১ সালের ১৬ এপ্রিল একই গ্রামের মৃত আহম্মদ
মোড়লের ছেলে শাহাবুদ্দিন মোড়ল ও রাহাজ মোড়ল, মোফাজ্জেল মোড়লের ছেলে তছির মোড়ল ও
বছির মোড়ল এবং শওকত মোড়লের ছেলে শাহিনুর মোড়ল ও আব্দুল লতিফ মোড়লের কাছে
বিক্রয় করেন, যার দলির নং-২৯০৩। ১৯৮৮ সালে ওই জমির উপর সরকারি রাস্তা যাওয়ায় রাস্তার
পশ্চিম পাশে ২১৭ খতিয়ানের ৩০ দাগের ৩ শতক জমি উল্লেখিত ক্রেতাদের নামে রেকর্ডভুক্ত
হয়। ১৯৯০ সালে শাহাবুদ্দিন মোড়ল, রাহাজ মোড়ল, তছির মোড়ল, বছির মোড়ল, শাহিনুর
মোড়ল ও আব্দুল লতিফ মোড়লের ৩ শতক জমি পাত্রপাড়া গ্রামের শেখ আবু বকর সিদ্দিকের
নিকট বিক্রি করে দেন। যার দলিল নং-১২৩৯। তাং-১৮-০৪-১৯৯০। জমি বিক্রয়ের সময় বছির
উদ্দিন নাবালক থাকায় তার অংশের জমি তার পিতা নাবালকের ওলি হয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেন। উক্ত
৩ শতক জমি গত ৩২ বছর ধরে আবু বকর সিদ্দিক বসত বাড়ি নির্মান করে ভোগদখল করে
আসছেন। ইতিমধ্যে আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুর পর তার ছেলে শিকারপুর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান মাসুদ ওই জমি ওয়ারেশ সুত্রে ভোগ দখল
করছেন। অন্য ভাইদের দাবি না থাকলেও সম্প্রতি বছির উদ্দিন মোড়ল তার অংশের হাফ শতক
জমি ফেরত পাইবার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ সহ নানাভাবে নুরুজ্জামান মাসুদকে
হয়রানি করে চলেছে। এছাড়াও নুরুজ্জামান মাসুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হেয় প্রতিপন্ন
করতে বানোয়াট একাধিক অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দিয়ে চলেছে। সেইসব
অভিযোগ পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক
নুরুজ্জামান মাসুদসহ তার পরিবারের সদস্যরা বছির উদ্দিনের হয়রানির হাত থেকে মুক্তি
পেতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বছির উদ্দীন বলেন, ওই জমি আমার নামে রেকর্ড রয়েছে। তারা জোর করে দখল করে
নিয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক দপ্তরে অভিযোগ ও যশোর আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমাইয়া খানম বলেন,
নুরুজ্জামান মাসুদের মত একজন আন্তরিক শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে নেই । তার বিরুদ্ধে যেসব
অভিযোগ করা হয়েছে সবই মিথ্যা। জমি নিয়ে বিরোধের সুত্র ধরে হয়রানি করার লক্ষে
বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে
যা”েছ। শিক্ষক মাসুদ নয় বছির উদ্দীন আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন।
তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ