নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিশু শিক্ষার্থী আরাবুর রহমান তাওসিন বায়না ধরেছিল বাবার সঙ্গে হোটেলে গিয়ে পরাটা খাবেন। ছেলের বায়না মেটাতে হাতে ধরে তাকে বাড়ির পাশেই বাজারে নিয়ে আসছিলেন বাবা হাবিবুর রহমান। হোটেলে প্রবেশের আগেই একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান বাবা- ছেলেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় তাদের সঙ্গে মারা গেছে আরও তিনজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মণিরামপুর উপজেলার যশোর-কেশবপুর সড়কের বেগারীতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন : বেগারীতলা বাজারের পাশের টুনিয়াঘরা গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে আরাবুর রহমান তাওসিন (৬), একই গ্রামের সামছুর রহমান (৭০), তৌহিদুল ইসলাম (২৮) ও জয়পুর গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৫)।
বাড়ির সামনে স্বামী আর আদরের ছোট ছেলের এমন মৃত্যুতে মুহূর্তেই নির্বাক হয়ে যায় মা তহমিনা খাতুন। ঘটনার পর থেকে তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। কাউকে দেখলে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকছেন। কোনো কথা বলছেন না। মাঝে মাঝে সন্তানের নাম ধরে আহাজারি করছেন। স্বামী আর সন্তানহারা তহমিনার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে টুনিয়াঘরার আকাশ বাতাস। সবাই যেন হারিয়ে ফেলে সান্তনা দেওয়ার ভাষা।
কান্নাজড়িত কন্ঠে তহমিনা খাতুন বলেন ‘আমার কলিজার টুকরারে এভাবে আল্লাহ নিয়ে গেল। সন্তানের সাথে আমার স্বামীরেও। আমি কি করে সহ্য করবো আল্লাহ। আমার ঘরটা ফাঁকা করে চলে গেল। আমার পাখিটা কত মা মা করে পাগল করে দেয়; আর ডাকবে না রেৃ. আল্লাহ। টেলিভিশন দেখতে দেখতে সকালে ছোট ছেলে বায়না ধরেছিল পরাটা খেয়ে মাদ্রাসায় যাবে। সেই পরাটাও খেতে পারলো না রে। আকাশের দিকে দুই হাত তুলে আর্তনাদ করে তিনি বলতে থাকেন, ‘কি এমন পাপ করেছিলাম আল্লাহ; যার কারণে একসঙ্গে আমার স্বামী আর ছোট ছেলেরে এভাবে কেড়ে নিতে হলো! এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো। আমাদের কি হবে আল্লাহ। একসঙ্গে আমাদের দুটি প্রাণ নিয়েছে যারা তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে সরকারকে। তাহমিদ রহমান তাজিম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ছোটভাই তাওসিন মাদ্রাসা যাওয়ার আগে বায়না ধরে পরাটা খাবে। পরাটা খেতে না দিলে মাদ্রাসায় যাবে না। তার বাবার হাত ধরে বাড়ির পাশেই বেগারিতলা বাজারের একটি হোটেলে যাচ্ছিলেন তারা। হোটেলে প্রবেশের আগেই যশোর থেকে সাতীরাগামি একটি কাভার্ড ভ্যান বাবা আর ছোটভাইকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তারা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তাজিম বলে, ‘ওরে আব্বু তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে। এখন আমাদের কে দেখবে। আদরের তাওসিনও চলে গেল। আমরা যে নিঃস্ব হয়ে গেলাম!

