জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের রাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি মাঠ সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বৃহত্তর এ অঞ্চলে প্রকৃতির রুপও বদলে গেছে। সেই সাথে বদলেছে ফসলের ধরনও। সবুজ প্রকৃতি এখন যেন হলুদ রঙ ধারন করেছে। দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে। ফলে প্রকৃতি যেন নয়ন জুড়ানো হলুদ আভায় রুপ নিয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জসহ পার্শ্ববতী এলাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকের চোখে মুখেও আনন্দের রেখা ফুঁটে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে ১৪শ ১ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। এবার সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১৩শ হেক্টর জমিতে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে একশ এক হেক্টর জমিতে এবার সরিষার বেশি চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা কৃষি অধিদপ্তরের।
সরজমিনে দেখা গেছে, ফসলের মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। চারিদিকে হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেনো অপরুপ সাজে সেজেছে পল্লীর এ প্রকৃতি। সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ আর মৌমাছিদের গুঞ্জরণে মুখরিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ। এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে বাড়ছে প্রকৃতি প্রেমিদের আনাগোনা। গত বছর সরিষার বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবারও লাভের আশায় দিনগুনছেন এ এলাকার শতশত কৃষক।
উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের কৃষক ওসমান গণি, ইউসুফ আলী গাজী, রুহুল আমিন, মোস্তফা, গোলাম হোসেন, শাহজাহান কবির ও ইসমাইল হোসেন জানান, স্থানীয় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রায় তিন একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ করেছি। বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকা। সরিষা ক্ষেতে কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকায় এবার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন এ কৃষকরা। রাজগঞ্জ কলেজপাড়া গ্রামের কৃষক পলাশ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ করেছেন। এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। সেই সাথে বাজারে ভালো দাম পেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ করবেন।
চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ইচানি গ্রামের চাষি টুটুল হোসেন ও মোবারকপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরিষার জমিতে ধান চাষে খরচ অনেক কম হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে এলাকায় সরিষার চাষ আরো বেড়ে যাবে বলে আশা করেন কৃষিবিদসহ সচেতন এলাকাবাসী।
ঝাঁপা ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ভগিরাত কুমার চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে এ এলাকার সরিষা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে পরামর্শ দেয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করেছে। এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে। এছাড়া আগামী ২০২৩ সালে যেন সরিষা চাষ আরো বেশি হয় সেজন্য কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

