শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বুধবার যশোরে দুটি মহাসড়ক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর-বেনাপোল ও চুড়ামনকাটি-চৌগাছা মহাসড়ক ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। সকাল ১০ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়ক দুটি নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২০২৫ মেয়াদে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী অনগ্রসর এবং দুর্গম অঞ্চলের প্রান্তিক জনসাধারণকে অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করার ল্েয সড়ক ও জনপথ অধিদফতর দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ককে গতিশীল করার জন্য এই কাজ করছে।

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের অধীনে ৩০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ দশমিক দুই কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ করেছে। প্রকল্পের অধীন ২৭ দশমিক ৬৮২ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্ততা ৯ দশমিক ১০ মিটার এবং ১০ দশমিক ৫১৮ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্ততা ৭ দশমিক ৩০ মিটার। এই মহাসড়কের বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অপরদিকে, ৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চুড়ামনকাটি-চৌগাছা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অধীনে ১৬ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে পুনর্র্নিমাণ ১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২১ ডিসেম্বর সারাদেশে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে যশোর-বেনাপোল ও চুড়ামনকাটি-চৌগাছা সড়কও রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খুব শিগগিরই ভাঙ্গা-কালনা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ১৪ বছর আগে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল সেই স্বপ্ন বাস্তব আজ। এখন ল্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। দিন বদলের এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে সড়ক যোগাযোগের েেত্রও। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগের অভাবনীয় রূপান্তর আজ সবার চোখের সামনেই দৃশ্যমান। তবে এ রূপান্তর একদিনে হয়নি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মতই বহু পুরনো এক শিকড়। গঙ্গাঋদ্ধি হতে বাংলাদেশের ইতিহাস এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে গণমানুষের অভিযোজন আর মিথেষ্ক্রিয়ার উপাখ্যান। মসলিন আর মসলার দুর্নিবার আকর্ষণে বারবার বহিঃশক্তি এদেশে হামলা করেছে, শাসন করে সম্পদ লুটে নিয়ে গেছে, জনগণের উন্নয়ন হয়নি কিছুই। স্বাধীনতা বঞ্চিত জনগণ নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনের তুলনায় যোজন যোজন পশ্চাৎপদ ছিল। শোষিত, চিরবঞ্চিত জাতির মুক্তির জন্য বাংলার শোষিত জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আবির্ভাব হয় ইতিহাসের মহানায়ক-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের। দুঃখী জনগণের দরদী বন্ধু স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহিদের রক্তে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।
দীর্ঘ নয় মাস বন্দী জীবন শেষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা শুরু হয় জাতির পিতা কর্তৃক প্রণীত প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে। ুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু প্রথমেই দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৭৪ সালের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ধ্বংস প্রাপ্ত সব সেতু পুননির্মাণের মাধ্যমে বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হয়। তিগ্রস্থ সড়ক-সেতু মেরামতের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে আমিন বাজার সেতু, নয়ারহাট সেতু এবং তরাসেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একটি আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী পথ দেখিয়েছিলেন জাতির পিতা। সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু যখন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ল্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে, ফলে বাংলার ভাগ্যকাশে দেখা দেয় দুর্যোগের কালো মেঘ।
এ অন্ধকার মেঘ ভেদ করে বাংলার মানুষ পায় নতুন আশার আলো, যিনি আমাদেরই আশার বাতিঘর, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া, আধুনিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক, উন্নয়নের মানসকন্যা, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনা”। তাঁর তেজস্বী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথম বারের মত ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ এর মত দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। প্রেতি পরিকল্পনা ২০২০-২০৪১ এর আলোকে ২০২০-২০২৫ মেয়াদে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে, যার মাধ্যমে অনগ্রসর ও দুর্গম অঞ্চলের প্রান্তিক জনসাধারণকে অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করার ল্েয সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ককে গতিশীল করার নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। উন্নয়নের ল্যমাত্রা অর্জনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ