এম.এইচ.উজ্জল: যশোরে হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নবজাতক ও শিশুরা ঠান্ডাজনিতসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের আউটডোরে আগের চেয়ে প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণ রোগী আসছে। মঙ্গলবার ও বুধবার যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নবজাতক থেকে ২ বছর ৬মাস বয়সী বাচ্চাদের সংখ্যাই বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক নবজাতক ও শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এসব শিশুর মধ্যে কেউ কেউ কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অনেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও অনেক নবজাতকের গুরুতর অবস্থাও দেখা গেছে।
গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত দুদিনে হাসপাতালে ঠান্ডজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। এ দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ১৪ জন। বর্তমান শিশু ওয়ার্ডে ২৮ বেড়ের বিপরীতে ৪৮ জন ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৫ বেডের বিপরীতে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ দিনে হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগ থেকে দুদিনে চিকিৎসা নিয়েছে ২০২ জন।
সদর উপজেলার ফরিদপুর থেকে আসা রুপা খাতুন বলেন, ‘আমার বাচ্চার বয়স ৪৫দিন। হঠাৎ করেই ঠান্ডা লেগেছে। প্রথমে গ্রামে চিকিৎসা করিয়েছিলাম, কিন্তু কমেনি। শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, সে কারণে মঙ্গলবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার বলেছে হাসপাতালে ভর্তি করতে।
ছুটিপুর থেকে আসা সখিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলে সাব্বির দু’দিন ধরে ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। এতোদিন স্থানীয় গ্রাম ডাক্তারের চিকিৎসা চলছিলো। কিন্তু রোগীর কোনো উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখালে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ভর্তি করে দেয়া হয়েছে।
একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে শয্যা সংকটে রোগীকে নিচে মেজেতে শুতে হচ্ছে। এতে, ঠান্ডার রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাহফুজুর রহমান জানান, শীতে বাচ্চাদের ঠান্ডাজনিত রোগ বেশি হয়। বর্তমানে এ হাসপাতালে যত রোগী আছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি ঠান্ডাজনিত আক্রান্ত।
শীতে কেন শিশুদের অসুস্থ হবার প্রবণতা বাড়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, তিন-চার দিন এক নাগারে সূর্য না উঠলে কাপড় ঠিকমতো শুকায় না। সেই কাপড় ব্যবহার করলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শীতের সময় নবজাতক ও শিশুদের কোনোভাবে ঘরের মেঝেতে বা সেঁতসেঁতে জায়গায় রাখা যাবে না। এ সময় সব শিশুদের কুসুম গরম পানি খাওয়াতে হবে। সুষম খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। আর বয়স্ক সবাইকে অবশ্যই শীত থেকে সাবধানে থাকতে হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদ জানান, রোগীর চাপ একটু বেশি আছে তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। রোগীদের ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই। শয্যা সংকট রয়েছে সত্য। তবে, সেটি সাময়িক সমস্যা।

