শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 অর্ধশত বছর পর অবৈধ দখলমুক্ত বেনাপোলের হাকর নদ খনন শুরু

আরো খবর

বেনাপোল প্রতিনিধি:অবশেষে অর্ধশতাধিক বছর পর অবৈধ দখলমুক্ত হতে চলেছে বেনাপোলের হাকর নদ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে নদ খননের কাজ। ভারতের ইছামতী গঙ্গা ও ফারাক্কা সহ বাংলাদেশের কুদলা.কপতাক্ষ ও রুপসা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত প্রবহমান হাকর নদ। যেখানে চলত লঞ্চ ও ষ্টিমার। জীবন জিবিকা নির্বাহ হতো দু পার বাংলার লাখো মানুষের
 রক্ষাপেত জীব বৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাময়। নদ খননে বেনাপোল বাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
১৯৫৫ সালের পর থেকে নদের দুই পাড়ের প্রভাবশালী লোকজন দখল করে নেয় নদ। গড়ে তোলে অট্টালিকা ভবন ব্যাবসা প্রতিষ্টান ও ভেরীবাধ পুকুর ও মাছের খামার। হুমকির মুখে পরে বন্দর এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র।
ভূমি কর্মকর্তাদের সহায়তায় ৬২ সালের পর হাকর নদ চলে যায় ব্যক্তি মালিকানায়। দীর্ঘ এ সময়ে নদটি দখলমুক্ত করতে শত চেষ্টা চললেও তা হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ ৬৮ বছরপর আলোর মুখ দেখল বেনাপোলবাসী।  সরকারকে কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ জানান সর্বসাধারন।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, বেনাপোলের নারায়ণপুর থেকে বেনাপোল সাদীপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার খনন করা হবে।২২ কিলোমিটার দূরত্বের বাকি অংশ পরবর্তীতে ধাপে ধাপে খনন করে বিভিন্ন বিলের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে। সোমবার  থেকে  আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। দখলমুক্ত করতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনো বাধা আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খনন চলছে। খনন শুরুর আগে রেকর্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নদ খননের পক্ষে এলাকার ৯৭ শতাংশ মানুষ অবস্থান নিয়েছে। কোন দুবৃত্তা সরকারি কাজে বাধাদিলে প্রশাসনের সাথে তাদেরকে প্রতিহতের ঘোষনা দিয়েছেম আরিফুজামান ভাদু আলীকদর সাগর বিল্লাল হোসেন কামাল হোসেন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা।
বেনাপোল  পৌর প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন সাবেক পৌরবাসির দীর্ঘ দিনের দাবীর মুখে সাবেক  পৌর মেয়রনআশরাফুল আলম লিটন সার্বিক সহযোগিতায় একাধিকবার পরিদর্শন শেষে সরকারের সদ ইচ্ছার হাকর নদ খনন শুরু হয়েছে কয়েকটি ধাপে  খনন কাজ বৃক্ষ ও ওভারব্রীজ সহ  সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ ফিরে পাবে বন্দরবাসি। চলমান থাকবে শাখা প্রশাখা খননসহ অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ২০০ গজ দূরে হাকর নদের অবস্থান।  বন্দরের পানি নিষ্কাশনের জন্য হাকর নদ খনন করা খুবই  অপরিহার্য। ভারতের গঙ্গা, ইছামতী, ফারাক্কা ও কুদলা নদীর সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত হাকর নদ। এক সময় বেনাপোল সীমান্ত- সংযুক্ত হাকর নদীপথে দুই দেশের মধ্যে চলাচল করত লঞ্চ ও রং-বেরঙের পালতোলা নৌকা। ভারতের কলকাতা, বনগাঁ, বশিরহাট থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে বজরা নৌকা ভিড়ত বেনাপোলে।যশোর খুলনার সাথে৷ নদের ছিল যোগসুত্র।
নদটি ছিল এ অঞ্চলের কৃষি ব্যাবসা ও জেলেদের মাছ শিকারের প্রধান ক্ষেত্র।   মৎস্য, কৃষি ও ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকার উৎস ছিল নদটি। বিশাল পরিসরে নদটির দুই পাড়ে গড়ে ওঠে সাদিপুর,  নামাজগ্রাম, গাজিপুর.নারায়ণপুর, ধান্যখোলা, ডুপপাড়া শার্শা নাভারন.উলাশি বাগআচড়া গদখালি ঝিকরগাছা সহ অসংখ্য গ্রাম। কালের বিবর্তনে প্রবহমান এলাকার অনেক হাওড় বাওড় বেতনা খাল ও নদ সরু খালে ও শাখা প্রশাখা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর নদটি ঘিরে শুরু হয় অপদখল আর কেনাবেচার উৎসব। অনেকেই নদটি দখল করে তৈরি করেছেন বড় বড় বাড়ি। রাজনৈতিক পালাবদলে এলাকার প্রভাবশালী মহল জবরদখল করে খনন করেছেন হাজারো পুকুর। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে তুলেছেন মাছের ঘের। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে জোয়ারভাটা। আবারও বইবে জোয়ার ভাটা কৃষকরা হবে উপকৃত রক্ষাপাবে জীব বৈচিত্র। পরিবেশের রক্সাপাবে ভারসান্য বিনোদন প্রেমা মানুষের কাছে দৃষ্টি নন্দন ও আকর্ষনীয় হয়ে এমটাই আশায় বুব বেধেছেন পৌরবাসি সহ সীমান্ত এলাকার মানুষেরা।#

আরো পড়ুন

সর্বশেষ