শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 শীতের প্রকোপে বেড়েছে গরম কাপড় বিক্রির ধুম

আরো খবর

এম.এইচ.উজ্জলঃ যশোরে টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। ভোরবেলা ঘন কুয়াশার সাথে সারাদিন সূর্যের দেখা মিলছে না। এর সাথে ঠাণ্ডা বাতাসে কাবু করে ফেলছে।
তবে কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে শীত নিবারণে মানুষ গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় বেড়েছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। শহরের নতুন ও পুরনো শীতের কাপড়ের মার্কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে সোয়েটার, ব্লেজার, হাত-পায়ের মোজা, টুপিসহ নানা ধরনের গরম কাপড়।
শহরের ফুটপাতে ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে সোয়েটার, কানটুপি, মাফলার, মোজা ও হাত মোজাসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক। গরিব-ধনীসহ সব শ্রেণীর মানুষ ভিড় করছেন এসব দোকানে।
শহরের কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট, জেলা পরিষদ হকার্স সুপার মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতা সাধারণের উপচেপড়া ভিড়। শহরের ফুটপাত ও মার্কেটের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ছিল বেচাকেনার ধুম। এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে অস্থায়ী পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতেও সারা দিন ভিড় লেগেই থাকে। কম দামে ভালো মানের গরম কাপড় মেলায় এসব দোকানে বেচাকেনাও ভালো হয়। দাম কম হওয়ায় অনেক ধনী পরিবারের সদস্যরাও শীতের কাপড় কিনতে আসছে এখানে।
সরেজমিনে শনিবার শহরের ফুটপাত ও মার্কেটের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে শীত বেশী হওয়া সত্তেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সকল দোকান গুলোতে চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল।
যশোর জেলা পরিষদ হকার্স সুপার মার্কেটের কর্মচারী রফিকুল বলেন, এতদিন তেমন শীত পড়ছিল না, হঠাৎ গত বুধবার থেকে যশোরে খুব শীত পড়ছে। শীত থেকে বাঁচার জন্য সবাই শীতের পোশাক কিনতে বাজারে আসছে। সেজন্য সারাদিন দোকানে খুব ভিড় লেগেই আছে, আমাদের বেচাবিক্রিও বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ আগেও সারাদিনে বিক্রি হতো চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার। কিন্তু এখন সারাদিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রিও বেড়েছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। তারা আরও জানায়, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশী হওয়ায় বিক্রি ভাল হচ্ছে।
পুলেরহাটের বাসিন্দা রিকশাচালক হাসানুর রহমান বলেন, শীতের কারণে রাতে ও সকালে ভাড়া খাটতে পারি না। চারদিন ধরে খুব শীত পড়ছে। এখন গরিবের অসময় চলছে; একদিকে শীতের কষ্ট, অন্যদিকে আয় কমে যাওয়ার ফলে অর্থের কষ্ট। এর ভিতর আবার শীতের কাপড় কিনতে হবে। গত বছর বাচ্চাদের সোয়েটার ৫০ থেকে ১০০ টাকায় কিনেছিলাম, তবে এবার শীত বেশী হওয়াই দাম একটু বেড়েছে, ৩৫০ টাকা দিয়ে তিনটা সোয়েটার কিনলাম।
পুরোনো জ্যাকেট কিনতে এসা সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র নাহীদ হাসান (২৫) বলেন, ‘কিছু পোশাক আছে দামে কম এবং দেখতেও বেশি পুরোনো লাগে না। সেসব থেকেই খুঁজে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে আমি একটা জ্যাকেট কিনতে এসেছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ