অভয়নগর প্রতিনিধি: অভয়নগরে হত্যা মামলার আসামি সুব্রত ম-ল (৪৮) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকা-ে ব্যবহৃত পিস্তলের গুলির একটি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সন্ত্রাসীদের আটকে কাজ শুরু করেছে র্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম।
গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের দামুখালী গ্রামে দত্তগাতী দামুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত সুব্রত ম-ল দামুখালী গ্রামের মৃত অনাদী ম-লের ছেলে। তিনি ফুলতলা বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির ক্রীড়া সম্পাদক ও নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সদস্য খন্দকার রকিবুল ইসলাম হত্যাকা-ের জামিনপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানী শীলা ম-ল জানান, সকাল আনুমানিক ৮ টার সময় আমার দোকানের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেখে অজ্ঞাত দুই যুবক চায়ের অর্ডার দেয়। তাদের বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তারা কেশবপুরের কথা বলেন। এসময় আমার দেবর সুব্রত ম-ল দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। সাথে সাথে ওই দুই যুবক তার কাছে গিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে চার রাউ- গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যায়।
নিহতের পরিবার জানান, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সকালে সুব্রত বাড়ি থেকে বেরিয়ে দত্তগাতী দামুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চায়ের দোকানে যান। পরে জানতে পারি সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক শাস্তির দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলে আসছে। যার ধারাবাহিতকায় ২০২২ সালের ১২ মে ফুলতলা বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির ক্রীড়া সম্পাদক ও নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সদস্য খন্দকার রকিবুল ইসলাম খুন হয়েছিলেন। সেই একই স্থানে সুব্রত ম-ল খুন হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় তিনজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শামীম হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাস্তার উপর পড়ে থাকা মরদেহের মাথা, বুকের পাশে ও পিঠে তিনটি গুলি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থেকে পিস্তলের গুলির একটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহত সুব্রত ম-ল ফুলতলা বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার রকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়া ভবদহ এলাকায় তার একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। হত্যাকারীদের আটকে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

