মনিরামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের মামলার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে তদন্ত করতে আসেন। চাল আত্মসাৎ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন আনুমানিক দুপুর ১ টার সময়। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলে তদন্ত কার্যক্রম। তদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অসসম্পূর্ণ ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তদন্ত কাজটা সম্পূর্ণ করতে এখানে এসেছি। সরকারি চাল আত্মসাৎ মামলায় যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের কে নোটিশ করা হয়েছিলো, তারা প্রত্যেকে উপস্থিত হয়েছেন। তারা লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমি সেটা রেকর্ড করেছি। যদি আরো কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় তা হলে পুনারায় তথ্য সংগ্রহ করবো। তদন্ত পর্যালোচনা করা হবে তার ভিত্তিতে উর্দ্ধোতন কর্মকর্তা একটা সিদ্ধান্ত নিবেন। যদি আবারো কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় আমার অফিসে ডাকবো অথবা আবার এখানে আসবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কবীর হোসেন-পলাশ, মণিরামপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি আলী হোসেনসহ উপজেলা পর্জায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা।
২০২০ সালের ৫৪৯ বস্তা ত্রাণের চাল ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু বেশি মুনাফার লোভে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তদন্ত শেষে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। এরই পরিপেেিত উপজেলা পরিষদে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সাময়িক বহিষ্কারসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্রিষ্ঠরা।
২০২০ সালের ৪ এপ্রিল খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে যশোরের মনিরামপুরের উদ্দেশে ৫ ট্রাক সরকারি ত্রাণের চাল আসে। যার মধ্যে থেকে এক ট্রাক চাল গোডাউনে লোড না দিয়েই স্থানীয় ভাই ভাই রাইস মিলে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫৪৯ বস্তা চাল উদ্ধার এবং মিল মালিক ও ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, এই চালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় থানার এসআই তপন কুমার সিংহ বাদী হয়ে কালোবাজারির মাধ্যমে চাল মজুদের অভিযোগে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় আটক দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তারা মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। তদন্ত শেষে ওই ৬ জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৪৯ বস্তা চাল ত্রাণের। ওই চাল ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু বেশি মুনাফার লোভে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। যার মূল্য ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রথমে উত্তম কুমার ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে আরও ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে এই মামলায় বাচ্চু জামিনে রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন : মণিরামপুরের বিজয়রামপুরের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহেরপুর গ্রামের মৃত সোলায়মান মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম, জুড়ানপুর গ্রামের রবিন দাসের ছেলে জগদিশ দাস, একুব্বার মোড়লের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস ও খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা সাহেবপাড়ার রতন হাওলাদারের ছেলে ড্রাইভার ফরিদ হাওলাদার।

