শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শুক্র শনিবার বন্ধ, রবিবারে কি হবে জানিনা

আরো খবর

জীবনতো থেমে থাকেনা, দুঃখ কষ্ট যতোই আসুক জীবীকা নির্বাহে তাইতো
প্রতিদিন অবিরাম সংগ্রাম চলছেই চলছেই। আধুনিক কম্পিউটার ল্যাপটপ ও
ইন্টারনেটের যুগে এসেও-অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে, ভুট্রো, রবি ও আব্বাস,
কথা হচ্ছিলো যশোর কালেক্টরেট চত্বরের পুর্ব পাশের্^ জেলা তথ্য অফিসের সামনের
ছোট্র কাঠাল গাছ তলায় বসে থাকা ভুট্রোর সাথে। বৃহস্পতিবার বিকালে, যশোর
টাউন হল ময়দানে বাম গনতান্ত্রীক জোটের জনসভার নিউজ কভার করার জন্য বসে
ছিলাম, জনসভা শুরুর অনেক আগেই এসে পড়ায় সময় কাটছিলো না মনে করলাম
কালেক্টরির বটতলার মতির চার দোকান থেকে, একটু চা খেয়ে নিই, চা খাওয়ার পরও
সময় হচ্ছিলোনা। তাই কালেক্টরির নব নির্মিত খোলা যায়গায় বসে ছিলাম, তখনই
চোখে পড়লো ভুট্রোর উপর, একা একা উদাস মোনে বসে আছে ভুট্রো, সামনে
পুরোনো আমলের একটি স্বল্প মুল্যের টেবিল, টেবিলের উপর একটি পুরোনো টাইপ
মেশিন, বসার মতো একটি চেয়ারও নেই, ভাঙ্গা তক্তা দিয়ে তৈরী একজন বসার মতো
একটি বেঞ্চ তাতে বসে আছে ভুট্রো উদাস আকাশের দিকে চেয়ে।
উদাসী ওর চেহারাটা দেখে মোনের মধ্যে কেমনজানি এক অজানা অনুভুতি
শুরু হলো, অনেকক্ষন ধরে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম কিন্তু ওর দোকানে কোন খরিদ্দারের
দেখা নেই। ভুট্রোর বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে, ভাবলাম সময়ের সাথে বয়সের ভারে
হয়তো স্মৃৃৃতিভ্রম ঘটেছে অথবা অন্য কোন কারনে সেইজন্য তারমধ্যে এই
উদাসিনতা, মনের অজান্তে এক পা এক পা করে ওর দিকে এগিয়ে গেলাম,
জিঞ্জাসা করলাম কি ভাই একা একা বসে আছেন, কোন খরিদ্দারতো দেখতে
পাচ্ছিনা, ভুট্রো আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোন উওর দিলো না,
আবারও জিজ্ঞাসা করলাম ভাই কাজ কামের অবস্থ কী, এবার বললো না ভাই কাজ কামের
অবস্থা ভালো না।
আবারো জিজ্ঞাসা করলাম কতোদিন এ পেশায়, সে বললো তা প্রায় পনের বছর
হবে; যাইহোক ভালোই চলতো, কিন্ত বর্তমানে কম্পিউটার ল্যাপটপ আসায় ভাটা
পড়েছে এ পেশায়। বললাম পেশাতো বদল করা যায়, উওরে বললো দীর্ঘ পনের বছর এ
পেশায় আছি ইচ্ছা করলেও এ পেশা ছাড়তে পারছি না, তাই খেয়ে নাখেয়ে হলেও এ
পেশাটি আঁকড়ে আছি এখনো। আগে কাজের চাপে ফুরসত পেতাম না অথচ
এখন কম্পিউটার ল্যাপটপ আসায় এখন আর টাইপিষ্টের কদর নেই, অফিস আদালতে
এখন সবকাজ কম্পিউটারে করা হয়, ফলে টাইপিষ্টের কাজে পড়েছে ভাটা, আগে
যেখানে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা চিঠিপত্রসহ সামগ্রীক কাজ করা হতো
টাইপে সেখানে দেখতে দেখতে হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো টাইপিষ্ট নামক যন্ত্রটি।
মনে পড়ে ছোট বেলায় যখন যশোর কালেক্টরেট কোর্ট চত্বরে যেতাম তখন দেখা
মিলতো সারি সারি টাইপিষ্টের দোকান, ঠকা ঠক ঠকা ঠক তখন কদর ছিলো এ
যন্ত্রটির, সেই সাথে যে এটা চালাতো তারও। অথচ আজ তাদেরই এই দুরাবস্থা,

ছোট্র করে ভুট্রো কে জিজ্ঞাসা করলাম আজ কতো আয় হয়েছে, ভুট্রো খুব
ছোট্র সুরে বললো সত্যি বলতে কি ভাই, আজ সারাদিন এক টাকাও আয় হয়নি, শুক্র
শনিবার অফিস আদালত বন্ধ, তারমানে তিনদিন আমার কোন আয় নেই, রবিবারে কী
হবে জানিনা। ওর কথা শুনে মনের অজান্তে নিজের চোখ দুটো ভিজে উঠলো
তাড়াতাড়ী সেখান থেকে সরে পড়লাম। হাটতে হাটতে টাউন হলের মাঠে ঢুকতেই
বামজোটের নেতাদের কণ্ঠে মাইকে ভেসে আসলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের
চাহিদা চাল, ডাল, তৈল বিদ্যুত ও গ্যাসের অস্বাভাবীক মুল্য বৃদ্ধির কারনে জীবনে
বেঁেচে থাকা আজ অসহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। জনগনের হাজার হাজার
কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার
করেছে, ইত্যাদি ইত্যাদি…। কিন্তু আমার মাথায় শুধু ভুট্রোর কথাটা ঘুরপাক খাচ্ছে, আজকে কোন
আয় হলোনা, শুক্র শনিবার বন্ধ রবিবারে কি হবে জানিনা।
-হাবিবুর রহমান হবি

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ