শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

তিন বইয়ে চলছে ক্লাস 

আরো খবর

প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে এক মাস অতিবাহিত হলেও   মাধ্যমিক পর্যায়ের শতভাগ শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত নতুন বই পায়নি। সারা জেলার চিত্র একই। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ বই আসা বাকি। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির  বই চাহিদার তুলনায়  অল্প সংখ্যক  পৌঁছায়ছে । এদিকে অভয়নগর  উপজেলার  নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৪টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র তিনটি  বিষয়ের বই হাতে পেয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৭ টি। এবং বেসরকারি ২১টি দাখিল, আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে। এ বছর মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয় গুলোতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৭০ টি বই। এবং মাদ্রাসার  শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ৮৩ হাজার ৯০০টি। রোববার পর্যন্ত বরাদ্দ এসেছে ২ লাখ ৮০ হাজার ২৫৯ টি  বই। বাকি বই সপ্তাহখানেক পরে পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

নওয়াপাড়া পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার  বলে, কিছু বই পেলেও শিল্প সংস্কৃতি , স্বাস্থ্য সুরক্ষা  ও অঙ্ক বই এখনো পায়নি। সেগুলোই তো মূল বই। ফলে এখনো পড়াশোনা শুরু করেনি।

নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  ষষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলে, ‘ আমরা ইংরেজি, বিজ্ঞানসহ তিনটি বই পেয়েছি। বাকি বইগুলো এখনো আমরা পাইনি। বইসংকটের কারণে এখন না পারছি ক্লাস করতে, না পারছি বাসায় পড়তে।’

নওয়াপাড়া পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান   বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮৫ জন। তারা এ পর্যন্ত গণিত  বিষয়ের বই পায়নি । এ ছাড়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও কয়েকটি বিষয়ের বই পায়নি।

নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘প্রায় সব শ্রেণির বই পেয়েছি। তবে ষষ্ঠ  শ্রেণির মূল বই বিজ্ঞান, ইংরেজি বাদে   বাকি বই আসেনি । আর নবম শ্রেণীর  প্রায়  সব বই এসেছে। পুরোনো বই দিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’

অভয়নগর উপজেলা  মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো শহিদুল ইসলাম  বলেন, উপজেলাতে  মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয় গুলোতে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪ শ ৭০ এবং মাদ্রাসাতে  ৮৩ হাজার ৯শ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেয়েছেন ৭০শতাংশ  বই। পর্যায়ক্রমে বই আসছে, যা পাওয়া যাচ্ছে, তা সঙ্গে সঙ্গে স্কুলগুলোতে বিলি করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ষষ্ঠ  শ্রেণির বই অনেক কম পেয়েছি ।

তিনি আরো বলেন,  বিষয়টি পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বাকি বই পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ