হুমায়ুন কবির, কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ :ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৭৬ নং কমলাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২১ সাল থেকে ওয়াশ ব্লকের কাজ শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি।ইতোমধ্যে কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ে কোনো শৌচাগার না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি ১৫০ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন । বিদ্যালয়টির ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫ জনই নারী শিক্ষক।শৌচাগার ব্যাবহারের প্রযোজন হলে বিদ্যালয়ের সকলে আশ-পাশের বাসাবাড়িতে যাচ্ছে। এতে করে আশ-পাশের বাড়ির লোকজনেরাও বিরক্তবোধ করছেন। তালাবদ্ধ দ্বিতলা শৌচাগারটি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে খুলে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে একাধিকবার তাগিদ দিলেও তারা কর্ণপাত করছে না।একপ্রকার বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নাল আবদীন ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর সমাধান চেয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনের সপ্তাহ পেরোলোও মেলেনি কোনো সমাধান।বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতল শৌচাগারের গেটে তালা ঝুলছে।ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র সজীব, চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী জান্নাতুল, সহকারি শিক্ষক মোছাম্মদ নুরুন্নাহারসহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শৌচাগার ছাড়া নিদারুণ কষ্ট সহ্য করছেন তারা।উল্লেখ্য,পুরাতন শৌচাগারের স্থানে নতুন দ্বিতল শৌচাগার নির্মাণ কাজ করা হলেও কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্যও কোনো শৌচাগার তৈরি করা হয় নি।যে কারণে দুর্ভোগ পৌছায়ছে চরমে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দ্বিতল শৌচাগার নির্মাণ কাজটি করলেও অজানা কারণে কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ না করে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবদীন জানান, শৌচাগার ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান কি চলতে পারে? তবু্ও চলছে কয়েক বছর ধরে। বহুবার বলেও হচ্ছে না সমাধান।
মেসার্স এনামুল হক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোহাম্মদ রানা জানান, শেষ পর্যায়ের কিছু কাজ এখনো বাকি থাকাই শৌচাগারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেবো।

