, , ,

ঝিকরগাছায় যমজ দুই শিশু শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে পরিচালকের দৌড় ঝাপ

আরো খবর

ভ্রম্যমান প্রতিনিধি/বাঁকড়া(ঝিকরগাছা) প্রতিনিধি:
ঝিকরগাছায় যমজ দুই শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে চলছে নানা ফন্দিফিকির। কয়েকজন মাওলানা এবং কতিপয় অভিভাবক নিয়ে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান ।

এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন, উপজেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আকবর হোসাইন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। কিন্তু যে ধরনের অরুচিকর মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য পণোদিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই পূর্বক গণমাধ্যম কর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের সময় অভিযুক্ত ‘’রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত ছিলেন,বাস স্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও উপজেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুস শুকুর, সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা সদর উদ্দিন, সদস্য মহিবুল্লাহ আল মামুন,সংগঠনের প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক মুফতি শামীম মাহমুদ, মুফতি ইবাদুর রহমান, মুফতি আজাহারুল ইসলাম, মুফতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

’রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করে ইমাম পরিষদ কেন সংবাদ সম্মেলন করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবি তারা বিষয়টি শাখ দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। কারণ জমজ দুই বোনের সৎ পিতা রোববার দাবি করেছেন তাদের মেয়েদের শ্লীলতানি হানি করেছেন ওই পরিচালক। এছাড়্ওা তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ। যা সরেজমিন তদন্তে বেরিয়ে আসছে।

সূত্র জনায়, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পরিচালকের জামাতা। পরিচালক নিজেই কমিটির সেক্রেটারি। আবার শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাসাটির পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে ১১ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানান পরিচালক। তাঁর বড় জামাতা হাবিবুর রহমান রাফি কমিটির সভাপতি এবং তিনি নিজে সেক্রেটারি ও পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে কমিটির বাকি সদস্যদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনজনের নাম বলতে পেরেছেন তিনি। কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকাও দেখাতে পারেননি। নিয়মিত সভা হয় না বলেও জানিয়েছেন পরিচালক।

মাদ্রাসাটির এক অভিভাবক আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, “আমি আমার মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বাচ্চাদের থাকার পরিবেশ ভালো নয়। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। এ কারণে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।”

ঝিকরগাছা সরকারি এমএল হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাছিম বিল্লাহ শিশু একাডেমির অধ্যক্ষ এস এম মাহবুবুল আলম মন্টু বলেন, “মাদ্রাসাটির শুরুর দিকে আমি সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার নামে জমি না লিখে নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে পারিবারিকভাবে চালানোর কারণে আমি সেখান থেকে সরে আসি।”

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। মাদ্রাসাটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা আমি দেখব।”

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের দায়িত্ব পালন এবং কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখাতে না পারার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের থাকার পরিবেশ ও নির্যাতনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

উল্লেখ্য ঝিকরগাছা হাসপাতাল রোডে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসাটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) বোর্ড, ঢাকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। যার নং ইলহাক-ম-৬/৩৩২০,। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন নন-আবাসিক। আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক প্রায় ২হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও কেউ কেউ এর চেয়ে কম পরিশোধ করে। এছাড়া কোচিং বাবদ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে গেলে জানা যায় দুপুরের খাবারে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাত, মিষ্টি কুমড়ার ঘণ্ট ও পাতলা ডাল পরিবেশন করতে দেখা যায়। তবে পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান দাবি করেন, সপ্তাহে দুই দিন সকালে খিচুড়ি এবং বাকি পাঁচ দিন আলু ভর্তা ও পাতলা ডাল দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে মাছ, মাংস অথবা ডিমের যেকোনো একটি এবং রাতে সবজি ও পাতলা ডাল পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা থাকলেও জায়গাটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী দুই যমজ কিশোরীর মা পারুল খাতুন ও পালিত বাবা সানোয়ার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী রুবিনা রহমান প্রায়ই তাদের মেয়েদের মারধর করেন। পাশাপাশি পরিচালক তাদের দিয়ে হাত-পা ম্যাসাজ করাতেন এবং শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ