শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ফুল বিজুতে বর্ষবরণের সূচনা

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:
নদীর জলে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদিত ফুল আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব। পাহাড়ের ভিন্ন ভাষাভাষী ১৩ জনগোষ্ঠীর প্রাণের এ উৎসবের সূচনা হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে। এর মাধ্যমে শুরু হলো সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে সূর্যের আলো ফুটতেই জেলার পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায় চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পাড় মুখর হয়ে ওঠে।

নদীর পাড় ও আশপাশের ছড়া-খালগুলোতে ভিড় জমায় চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা। দলবদ্ধভাবে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করে তারা। এসময় খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

দীঘিনালা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি চাকমা বলেন, ‘চাকমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ফুল বিজু কেবল একটি আচার নয়; এটি পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে ফেলে নতুন বছরের জন্য শুভকামনা জানানোর প্রতীক।
ফুলের মাধ্যমে প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এই ঐতিহ্য চলছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।’

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। এসময় চেঙ্গী নদীর পাড়ে ফুল বিজুর স্থান ঘুরে দেখেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সহধর্মিনী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার।

ফুল বিজুতে অংশ নিতে আসা তরুণী রুমা চাকমা বলেন, ফুল বিজু আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি-নদীতে ফুল ভাসিয়ে আমরা নতুন বছরকে বরণ করি। এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।

স্থানীয় প্রবীণ জ্যোতির্ময় চাকমা বলেন, এই ফুল শুধু ফুল নয়, এটি আমাদের প্রার্থনা। আমরা চাই নতুন বছর শান্তি, সম্প্রীতি আর সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের প্রতীক এই আয়োজন।

ফুল বিজুর পরদিন পালিত হবে মূল বিজু, যেখানে ঘরে ঘরে প্রস্তুত হবে ঐতিহ্যবাহী পাজনসহ নানা খাবার। শেষদিন গজ্জাপজ্জার মধ্য দিয়ে আনন্দ-উল্লাসে বিদায় জানানো হবে পুরনো বছরকে।

এদিকে, চৈত্র সংক্রান্তি থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় শুরু করবে তিন দিনব্যাপী বৈসু উৎসব। হারিবৈসুর দিনে নদীতে ফুল পূজার পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে নতুন বুননের রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। গরয়া নৃত্যের ছন্দে মুখর হবে তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

অন্যদিকে, মারমা সম্প্রদায় উদযাপন করবে সাংগ্রাইং উৎসব। বুদ্ধ পূজা, পবিত্র পানি দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করানো এবং রি-আকাজা বা পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন বছরকে বরণ করবে তারা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘পাহাড়ের এই উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, এটি সম্প্রীতির উৎসব। সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশ নেওয়ায় এটি সার্বজনীন রূপ পেয়েছে।’

পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান বলেন, ‘উৎসব নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলাজুড়ে প্রায় ৪০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।’

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা পৃথক শুভেচ্ছা বার্তায় বর্ষবরণ ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সূত্র: কালের কন্ঠ

আরো পড়ুন

সর্বশেষ