নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের মণিরামপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক যাতায়াতের সাধারণ রাস্তা ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী উজ্জ্বল কুমার বালা ১৮ ই অক্টোবর মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণ পদ বালার ছেলে উজ্জ্বল কুমার বালার (৪৮) সাথে তার প্রতিবেশী বাবলু চক্রবর্তীর ছেলে মিঠুন মল্লিকের (৩০) জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্ত মিঠুন মল্লিক ভুক্তভোগীর বাড়ি যাতায়াতের একমাত্র সাধারণ রাস্তাটি জোরপূর্বক নিজের দখলে নেওয়ার জন্য রাস্তার মাঝে ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রেখে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগী জানান, এই বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি পূর্বে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারার আওতাভুক্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে যশোর দেওয়ানি আদালত আদেশ জারি করেন যে, উক্ত রাস্তাটি কেউ দখল করতে পারবে না। যার একটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের এমন সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদী মিঠুন মল্লিক গায়ের জোরে রাস্তাটি অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং ভুক্তভোগীর আরও ১১ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালান। উজ্জ্বল কুমার এতে বাধা দিতে গেলে বিবাদী তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মোছাঃ হাজিরা খাতুন ও মোছাঃ নাসরিন বেগমসহ আরও অনেকেই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী উজ্জ্বল কুমার বালা বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে অন্যায়ভাবে আমাদের রাস্তা বন্ধ ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মিঠুন মল্লিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে মণিরামপুর থানার পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত করছে।
