কেশবপুর প্রতিনিধি:
একটুখানি নিঃশ্বাসের জন্য ছটফট করছে মাত্র দুই বছরের শিশু হাবিব। যে বয়সে ওর হাসিখুশি মুখ আর দূরন্তপনায় ঘর মুখরিত থাকার কথা, সে বয়সে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ছোট্ট হাবিবের ফুটফুটে ঠোঁট আর হাতের আঙুলগুলো অক্সিজেন আর রক্তের অভাবে ধীরে ধীরে কালো হয়ে আসছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাবিবের ছোট্ট হৃদপিণ্ডে বড় একটি ছিদ্র ধরা পড়েছে। বেঁচে থাকতে হলে খুব দ্রুত তার হার্টে অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু মাত্র পাঁচ লাখ টাকার অভাবে নিভে যেতে বসেছে এক নিস্পাপ শিশুর জীবনদীপ।
হাবিবের বাবা আব্দুল্লাহ সরদার যশোরের কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল আমতলা এলাকার একজন সাধারণ ফার্নিচার মিস্ত্রী। দিন এনে দিন খাওয়া এই বাবার পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার পাহাড় ডিঙানো এক অসম্ভব স্বপ্ন। দুই মেয়ের পর যখন এই ছেলেটি কোল আলো করে এলো, অভাবের সংসারে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জন্মের মাত্র ১৮ দিন পরেই ধরা পড়ে এই মরণব্যাধি।
জন্মের পর থেকেই হাবিবকে কৌটার দুধ কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। একদিকে শিশুর দামি দুধ, অন্যদিকে ধুঁকে ধুঁকে চলা চিকিৎসা—এই খরচ চালাতে গিয়ে আজ নিঃস্ব ফার্নিচার মিস্ত্রী বাবা। নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে আজ তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাততে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাতে আর একদম সময় নেই। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে হয়তো চিরতরে থেমে যাবে এই ছোট্ট হৃদয়টি।
পিতার চোখের জল আর মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মধ্যকুল আমতলার বাতাস। এক অবুঝ শিশুর জীবন বাঁচাতে আকুল আকুতি জানাচ্ছেন তার অসহায় বাবা-মা। আপনার, আমার সামান্য একটু সহযোগিতাই পারে ছোট্ট হাবিবকে এক নতুন জীবন দিতে, ফিরিয়ে দিতে তার মায়ের হাসিমুখ।
