, , ,

কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড মধু কবির বসতবাড়ি ও ক্যাম্পাস

আরো খবর

এনামুল হাসান,কেশবপুর(যশোর):মৌসুমের প্রথম ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা সাগরদাঁড়ির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও সংলগ্ন পর্যটন কেন্দ্র। ঝড়ের প্রচণ্ড দাপটে উপড়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের বিশালাকার গাছপালা, ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ছিঁড়ে গেছে সঞ্চালন লাইনের তার। এতে পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

০২ মে শনিবার (দুপুরে)  হঠাৎ শুরু হওয়া এই শক্তিশালী ঝড়ে যশোর কেশবপুর উপজেলার  সাগরদাঁড়ি এলাকার ওপর দিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব বয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের গতিবেগ এতই বেশি ছিল যে মধুসূদন একাডেমী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা বেশ কিছু পুরনো এবং মূল্যবান গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের ওপর গাছ আছড়ে পড়ায় পুরো এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে যায়।

 

 ক্যাম্পাসের ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের বেশ কয়েকটি বড় গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়েছে এবং অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে ভবন ও সীমানা প্রাচীরের ওপর পড়েছে।

 

  বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও তার ছিঁড়ে পড়ায় সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্রসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো বর্তমানে অন্ধকারে রয়েছে। বিদ্যুতের মেইন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংযোগ মেরামতে সময় লাগতে পারে।

 

 ঝড়ের ঝাপটায় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিভিন্ন নির্দেশিকা বোর্ড, টিনের চালা এবং অস্থায়ী সাইটগুলো দুমড়েমুচড়ে গেছে।

 

ঝড় থামার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। রাস্তায় পড়ে থাকা গাছপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে এমন প্রকৃতির তাণ্ডবে মর্মাহত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

 

কালবৈশাখীর ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ানের হাসানুজ্জামান বলেন ​আজ আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখী ঝড়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ি মধুপল্লী ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রচণ্ড গতিবেগে মধুপল্লী ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা বেশ কিছু মূল্যবান ও বড় গাছ উপড়ে পড়েছে।

​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা। ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের ওপর পড়ায় খুঁটিগুলো ভেঙে গেছে এবং তার ছিঁড়ে পুরো ক্যাম্পাস বর্তমানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে করে পর্যটন কেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।

​

মহাকবির এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য স্বাভাবিক করে তুলতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সংস্কার কাজ চলাকালীন ক্যাম্পাসে চলাচলের সময় সকলকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ