তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা কমপ্লেক্সের ড্রাইভার এনামুল ইসলামের দৌরত্বের শেষ কোথায়? কর্তপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া খাটানো, রুগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আরচণ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষটি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আরএমও ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন তালা কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ বিল প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কর্তপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় পরিচালিত করেছেন এই ধুনন্ধর ড্রাইভার এনামুল ইসলাম।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় তালার এক ক্লিনিকের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুলেন্স উপজেলার শাকদহা ব্রীজের কাছে বিকল হয়ে পড়ে। এসময় তালা হাসপাতালের সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এনামুল কর্তপক্ষ কে না জানিয়ে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স গোপনে ভাড়া দেন।
কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সের পিছনে ঐ বিকল এ্যাম্বুলেন্স বেঁধে সাতক্ষীরায় গ্যারেজে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তালা কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন তার ব্যক্তিগত সহকারী রানার মাধ্যমে কর্তব্যরত উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লিটন মল্লিকের কাছ থেকে ভূয়া রশিদ তৈরী করিয়ে নেন বলে জানা গেছে।
ড্রাইভারের কথা অনুযায়ী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে ইলিয়াস নামে কোনো রুগী ভর্তীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তালা কমপ্লেক্সের সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এনামুল ইসলাম বলেন, আমি রোগী নিয়ে সাতক্ষীরা মোডিকেল কলেজে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। শাকদহার কাছে গিয়ে দেখি তালার একটি ক্লিনিকের এ্যাম্বুলেন্স খারাপ হয়ে গেছে। তখন তাদের অনুরোধে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের পিছেনে বেঁধে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাই। সরকারী এ্যাম্বুলেন্স এই কাজে ব্যবহারের কোনো সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নেরে জবাবে তিনি রাগান্মিত হয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলেন। তবে অনুসন্ধ্যান করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে ইলিয়াস নামে কোনো রুগী ভর্তী হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লিটন মল্লিক বলেন, এই বিয়য়ে আমি কিছু জানি না। আরএমও ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন তার সহকারী রানা কে দিয়ে আমার কাছ থেকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার একটি রশিদ নিয়ে গেছেন। তবে গতকাল বিকালে আমার দ্বায়িত্ব ছিলো না।
উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফতেমা বেগম বলেন, গতকাল দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আমার ডিউটি ছিলো। এই সময়ের মধ্যে এ্যাম্বুলেন্স কোথাও ভাড়ায় যায়নি। কেউ কোনো জায়গায় ভাড়া খাটিয়েছেন কিনা আমার জানা নেই।
তালা কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ খালিদ হাসান নয়নের কাছে মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি এমন কি হোয়াটসএ্যাপে মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
তালা কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমি যতটুকু জানি গতকাল এ্যাম্বুলেন্স কোথাও ভাড়ায় যায়নি। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
