বিশেষ প্রতিনিধি: আগামী তিন মাসের মধ্যে যশোর আওয়ামীলীগের ৮টি উপজেলা ইউনিটসহ শহর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকায়, দলে গতিশীলতা আনতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসব কমিটিতে স্থান পাবেন না সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিস্কৃত হওয়া নেতাকর্মীরা। এমনকি দলের বিরুদ্ধে যেয়ে শোকজ হওয়া নেতাকর্মীরাও সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে পড়বেন বিপাকে। তবে এমন সিদ্ধান্ত দলকে কিছুটা হলেও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করবে, বলছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা।
যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর জহুরুল হক জানান, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের ৭টি উপজেলা ইউনিটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বেশ আগেই। কোন কোন কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে। শুধুমাত্র যশোর সদর ও শহর আওয়ামীলীগ কমিটির মেয়াদ আছে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত। তবে ওই দুটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা করা হয়নি আজও।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর জহুরুল হক বলেন, করোনা মহামারির কারণে রাজনীতিসহ দেশের সকল সেক্টরেই স্থবিরতা নেমে আসে। যেকারণে কমিটিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও, করোনাকালীন সময়ে নতুন করে সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তেমনি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ঘোষণা করা যায়নি। এখন যেহেতু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সুতরাং কেন্দ্র থেকেই সম্মেলনের ব্যাপারে বলা হয়েছে।
এদিকে বুধবার সম্মেলন প্রস্তুতি বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে মিলিত হন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ওই সভায় সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বহিস্কৃত হওয়া নেতাকর্মীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থক হিসেবে যাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে, তাদেরকে আসন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। একই কারণে শোকজ প্রাপ্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। যদি তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারে, সেক্ষেত্রে জেলা কমিটি বিষয়টি বিবেচনায় আনবেন। তবে নির্বাচনে দলকে সমর্থন জানিয়ে সরে আসা নেতাকর্মীদের কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবার।
জেলা আওয়ামীলীগের তথ্যানুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধচারণ করায় সবচেয়ে বেশী ৩১ জন বহিস্কৃত হয়েছে মনিরামপুর থেকে। এছাড়া যশোর সদরে ২৯, শার্শায় ১৫, বাঘারপাড়ায় ১৪, চৌগাছায় ১৩, কেশবপুরে ১০, ঝিকরগাছায় ৯ এবং অভয়নগরে ৩ জন বহিস্কৃত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে যেসব নেতাকর্মী বহিস্কৃত হয়েছেন তাদের একটি বড় অংশই দলের কান্ডারি হিসেবে স্ব-স্ব এলাকায় বিবেচিত হয়ে আসছেন। ত্যাগী ও দলের একনিষ্ঠ হওয়ায় জনমত নিয়ে তাদের অনেকেই নির্বাচিতও হয়েছেন। এসব নেতারা দলে উপেক্ষিত হলে, স্থানীয় আওয়ামীলীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। যার বিরুপ প্রভাব পড়বে জেলা আওয়ামীলীগেও।
তবে এ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির সহসভাপতি এএসএম হুমায়ূন কবির কবু বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে ফলো করছি। নির্বাচনকালীন সকল বিষয়ই কেন্দ্র অবহিত রয়েছে। সুতরাং তাদের নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করা হবে সব ক্ষেত্রে।
সহসভাপতি এএসএম হুমায়ূন কবির কবু আরও বলেন, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম শুধু জনসেবা কেন্দ্রিক ছিলো। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সেইসাথে আমরা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছি। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিনমাসের মধ্যে যশোরের মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল কমিটি সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে দলে গতিশীলতা ফিরবে।#
