, , ,

নেইমার ফিরছেন মরক্কো ম্যাচে

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:

আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দলে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। ২৬ সদস্যের দলে নেইমারকে রেখেছেন ব্রাজিল কোচ। বিশ্বকাপ দলে নেইমারের ডাক পাওয়ায় বিশ্বজুড়েই ব্রাজিল সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে মাতেন। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে সময় লাগেনি।

খবর আসে, ডান পায়ের কাফ মাংসপেশিতে গ্রেড-টু মাত্রার চোটে পড়েছেন নেইমার। এতে বিশ্বকাপে নেইমারের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে সেলেকাওদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা নেইমারের অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়েও বেশি। এতে বিশ্বকাপে নেইমারের খেলার আশা আরও জোরালো হয়েছে। জানা গেছে, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ফিরতে পারেন এ তারকা।

গত ২৮ মে করা স্ক্যান রিপোর্টে নেইমারের পায়ের পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার তথ্য মেলে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে ৩৪ বছর বয়সী এ তারকাকে। তবে গত সোমবার ব্রাজিলের মেডিকেল টিম নেইমারের আরও একটি স্ক্যান করার পর ইতিবাচক রিপোর্ট পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিবিএফ জানিয়েছে, নেইমার দ্রুত সেরে উঠছেন। এমন অবস্থায় জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন ও শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন নেইমার।

এই চোটে থাকার কারণেই নেইমার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খেলতে পারেননি। তার পরও দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে আনচেলত্তির দল। পানামাকে ৬-২ গোলে হারানোর পর গত রোববার ভোরে মিসরকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৪ জুন ভোরে, মরক্কোর বিপক্ষে। ইএসপিএন জানিয়েছে, স্ক্যান রিপোর্ট ইতিবাচক আসায় নেইমার দ্রুতই অনুশীলন শুরু করবেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যেতে পারে ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে। নেইমার শেষবার ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে বাম হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও মেনিসকাসে গুরুতর চোট পান নেইমার। ওই চোটে এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর মাঠে ফিরলেও চোট ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। বাধ্য হয়ে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে নাম লেখান শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। সেখানেও চোট পিছু ছাড়েনি নেইমারকে।

বহু নাটকীয়তার পর ডাক পান ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে। কিন্তু ফের বিপত্তি সৃষ্টি করে গ্রেড-২ মাত্রার চোট। নেইমারের চোটের ধরন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবো। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়াবিদরাই নন, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরীরাও এ ধরনের চোটে পড়তে পারে।

হরমোনজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্রীড়া চিকিৎসক ফ্রান্সিসকো তোস্তেতের বরাতে গ্লোবো উল্লেখ করেছে, ক্রীড়াবিদদের এ ধরনের চোটের মূল কারণ একই স্থানে অতিরিক্ত চাপের কারণে বারবার নড়াচড়া হওয়া। এতে যেসব তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট বিকাশের পর্যায়ে আছে, সেখানে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনুশীলনে ‘লোড’ ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ না করলেও এ ধরনের চোটে পড়তে পারেন খেলোয়াড়রা। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর, চোট কাটিয়ে দ্রুত সেরে উঠছেন নেইমার। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে এই বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে তাঁকে। এই তারকা ফুটবলার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ব্রাজিলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হেক্সা মিশন সফল করতে পারেননি। এবার হয়তো সেই আক্ষেপ পূরণের শেষ সুযোগ পাবেন তিনি।

সূত্র: সমকাল

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ