তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
পাট চাষ ও পাট শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যবধি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের অবদানই রয়েছে মুখ্য। পাট উৎপাদনকারী পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পাটের মান তুলনামূলক ভালো। ফলে বাংলাদেশের পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও মাটি চাষের উপযুক্ত হওয়ায় পাট চাষে সফল হয়েছে উপজেলার খলিলনগর, তালা, মাগুরা, খলিশখালি, সরুলিয়া, জালালপুর, তেঁতুলিয়া, ধানধিয়া, নগরঘাটা ইউনিয়নের চাষীরা। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে এবার উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল ২ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে। আবওহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষীরা এবার পাট চাষ বেশি করেছে। তাতে লক্ষমাত্র ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে উন্নিত হয়েছে বলে জানা যায় । তবে ফলন ভালো হলেও পাটের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে এসকল এলাকার চাষীরা।
পাটের বাম্পার ফলন হওয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কোথাও পাট লম্বা হয়েছে ৪ থেকে ৫ ফুট। আবার কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট। বর্তমানে পাট ক্ষেত পরিস্কারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। খলিলনগর ইউনিয়নের নলতা গ্রামের পাট চাষী আব্দুর রহিম মোড়ল ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এ বছর পাটের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে পাটের নায্য দাম পাবো কি-না তা নিয়ে শ’ঙ্কায় আছি। এখন বাজারে মণপ্রতি পাটের দাম দাম ২ হাজার ৩শ টাকা। পাট কাটার পরে শেষ পর্যন্ত দাম ২ হাজার টাকা মন থাকবে না। তখন ১৬০০-১৭০০ টাকা মণ বিক্রি হতে পারে। পরিশ্রম অনুযায়ী নায্য দাম পাননা বলে অভিযোগ চাষী আব্দুর রহিম মোড়লের। তিনি আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমির জন্য ৫০০ টাকা দরে দুই থেকে আড়াই কেজি বীজ কিনতে হয়। এরপর হালচাষের খরচ ১৩০০ টাকা। নিড়ানি খরচ আছে, শ্রমিক খরচ আছে। এরপর পাট কাটার খরচ, জাগ দেওয়ার খরচ, আশ ছাড়ানোর খরচ এসব বাদ দিলে লাভ তেমন হয়না বললেই চলে।
খলিলনগর গ্রামের আরেক চাষী জাহাঙ্গীর মোড়ল। তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন জানিয়ে বলেন, ঠিকমতো তো দাম পাই না। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সরকার ঠিক দামে পাট কিনে। বেপারিরা কয় পাটের দম কম। চাহিদা কম। আমরা কৃষকরা পড়ছি বিপদে।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেরছি গ্রামের পাটচাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, তালা উপজেলায় অনেক পাট হয়। টান জমি। জাগ দেওয়ার সুবিধাও আছে আমাদের। এইজন্য আমরা বেশি চাষ করি। এই যে দেখেন কত পরিশ্রম করছি। লাভ সীমিত। পাটের সঠিক দাম পাই না। এত পরিশ্রমের পরও লাভ আর কত। লাভ নাই। সরকারিভাবে পাট কিনলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
মাগুরা ইউনিয়নের পাট ব্যবসায়ী ডাঃ শাহিন হোসেন বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে পাটের দাম ছিলো ২৪০০/- টাকা থেকে ২৫০০/- টাকা। বর্তমানে সেই পাটের দাম এখন কমতে শুরু করেছে। তবে নতুন পাট উঠলে হয়তো বা ২ হাজারের নিচে নেমে আসবে বলে ধারনা করছেন এই পাট ব্যবসায়ী।
এব্যপারে তালা উপজেলা কুষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ হাজিরা খাতুন জানান, উপজেলায় এবারের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল ২ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে। আবওহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষীরা এবার পাট চাষ বেশি করেছে। তাতে লক্ষমাত্র ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতেউন্নিত হয়েছে। পাট চাষ করে সাধারণত ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি পর্যায়ের চাষীরা শুধুমাত্র তালা উপজেলায় পাট চাষ করেন। পাটের নায্যমূল্য বলতে পাট নুতুন উঠলে দাম তো একটু কম হবেই। তবে মধ্যসত্যাভোগীরা এটা ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রয় করে থাকেন। সরকারি ভাবে যদি কেনা হয় তাহলে তখন বাজার নিয়ন্ত্রন করার ব্যপারে একটা পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।
