এনামুল হাসান, কেশবপুর(যশোর) :
বারান্দায় পড়ে রয়েছে জন্মদাতা বাবার নিথর দেহ, আর উঠানে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সন্তানদের বড় করা বাবার কপালে মৃত্যুর পর শান্তিতে দাফন হওয়ার পরিবেশটুকুও জুটল না। কবরস্থানের মাত্র সাড়ে তিন হাত জমি নিয়ে জমিজমার বিরোধে বাবার লাশ বারান্দায় ফেলেই রক্তাক্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হলো দুই ভাই। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর অসহায় বৃদ্ধা মাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে সন্তানরা।
চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে সন্যাসগাছা গ্রামের দীর্ঘদিনের অসুস্থ বৃদ্ধ আব্দুল খালেক মান (৭২) মারা যান। তার মৃত্যুর পর নেপথ্যের সম্পত্তিগত বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ৪-৫ বছর আগে বড় ভাই মাহাবুর রহমান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ সব সম্পত্তি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন এবং আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি বানিয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন। পরবর্তীতে ছোট ভাই আছাবুর রহমান গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় সেই পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কিনে নিয়ে দলিলে বসবাস করে আসছিলেন।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ আব্দুল খালেক বড় ছেলের আশ্রয়েই ছিলেন। সোমবার সকালে বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই মাহাবুর রহমান পুরোনো বাড়ির কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশ্যে কবর খুঁড়তে গেলে বাঁধ সাধেন ছোট ভাই আছাবুর। ক্রয়ের সূত্রে জমির একক মালিকানা দাবি করে দাফনে বাধা দিলে মুহূর্তের মধ্যে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একে অপরের হামলায় রক্তে রঞ্জিত হয় বাড়ির উঠোন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে দাফন নিয়ে সংঘর্ষের পর অবহেলার শিকার হন মৃত বৃদ্ধের পত্নী ও অভিযুক্তদের জন্মদাত্রী মা। সন্তানরা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে অসহায় এই বৃদ্ধা বর্তমানে গ্রামের অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কেশবপুর থানার এসআই যোগেশ চন্দ মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পৈতৃক গোরস্থানেই আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা শেষে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
