, , ,

বেকারি খাবারে ঝিকরগাছা বাজার সয়লাব , মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ক্রেতাদের

আরো খবর

সাব্বির হোসেন:
যশোরের ঝিকরগাছা বাজারে বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য ও শিশু খাদ্যের বিক্রি বেড়েছে। বাজারের মধ্যে রাস্তার পাশ থেকে শুরু করে মাছ বাজারের আশপাশের দোকানগুলোতেও এসব খাবার পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাবারের মান, সংরক্ষণ ও মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ক্রেতা।

সম্প্রতি বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায় পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বাটারবন, চানাচুর ও বুটভাজাসহ বিভিন্ন খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। কোনো কোনো দোকানে ধুলাবালি ও মাছির হাত থেকে খাবার রক্ষার তেমন ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আবার কিছু পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলেও দেখা গিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিকরগাছা বাজারের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হওয়া এসব খাবারের একটি অংশ আসে জামতলা-দেউলির কামরুল ফুড এন্ড মারিয়া চানাচুর থেকে। পাশাপাশি যশোরের শংকরপুর এলাকার কয়েকজন বিক্রেতার কাছ থেকেও পণ্য সংগ্রহ করেন বাজারের দোকানিরা।

ঝিকরগাছা পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দা সামিয়া বলেন, দাম কম হওয়ায় আমরা নিয়মিত এসব খাবার কিনি। তবে খাবারের মান কেমন, সেটা নিয়ে আমরা জানিনা।

এদিকে ঝিকরগাছা পারবাজার এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি সবুজ কালারের বুটভাজা কিনে বাসায় নিয়ে যান। পরে খাবারটি হাতে নেওয়ার পর হাতে সবুজ রঙের দাগ লেগে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য, হাতে যে রং লেগেছিল, তা দেখে কাপড়ে ব্যবহৃত রঙের মতো মনে হয়েছে। বিষয়টি দেখে আর খাওয়ার সাহস পাইনি।

ঝিকরগাছা বাজারের বেকারি পণ্যের দোকানি রাজু বলেন, আমাদের এই বাজারের মুখের সড়কে চার-পাঁচটি দোকান রয়েছে। এছাড়া মাছ বাজারের পাশেও অনেক দোকান আছে। আমরা জামতলা-দেউলির কামরুল ফুড এন্ড মারিয়া চানাচুর এবং যশোরের শংকরপুর এলাকার কয়েকজন বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করি। আমরা খাদ্যপণ্যে সুন্দর ভাবে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করি। ক্রেতাদের ভালো ও মানসম্মত পণ্য দেওয়াকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখি।

তবে বাজারের ক্রেতাদের অভিযোগ, কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে এসব খাবার নিয়মিত কেনা হলেও অনেকেই পণ্যের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ কিংবা খাবার সংরক্ষণের বিষয়টি খেয়াল করেন না।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি থাকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির প্রবণতাও কমবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল মতিন বলেন, খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া এসকল পন্যের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে ল্যাবটেস্ট না করলে শিওর হওয়া যাবেনা। শিশু খাদ্য সহ অন্যান্য খাবারের মান নিশ্চিত করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঝিকরগাছা বাজারে বেকারি ও চানাচুরজাতীয় খাবারের সরবরাহ ও বিক্রি বাড়লেও এসব পণ্যের মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ