মণিরামপুর প্রতিনিধি: যশোর জেলার মনিরাপুর উপজেলাধীন দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান আনসার ও ভিডিপি দলনেতা আঃ জলিল এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি জাল জালিয়াতিসহ ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
একই ইউনিয়নের আনসার ও ভিডিপির নিয়মিত সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনসার ও ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি এমন ব্যক্তিকে দুর্নীতিবাজ আঃ জলিল অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট তৈরি করে দিচ্ছেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে আনসার ও ভিডিপি দলনেতা আঃ জলিল ভুয়া সার্টিফিকেটের কারখানা খুলেছে। তাছাড়া আঃ জলিলের বিরুদ্ধে প্রকৃত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বঞ্চিত করে ঘুস গ্রহণের মাধ্যমে এবং তার প্রদত্ত ভুয়া সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং নির্বাচন, পুজার ডিউটিতে নিয়োজিত করেছেন।
আঃ জলিলের লাগামহীন দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে যোগ্য ও প্রকৃত সদস্যরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর গৌরবময় ভাবমূর্তি মারাত্মক ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। দূর্বাডাঙ্গা এলাকার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের জনৈক আনসার ও ভিডিপি সদস্য উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বরাবর এ ব্যাপারে জলিলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় সদ্য সমাপ্ত দুর্গা পুজা ২০২৬ উপলক্ষে ডিউটি বাবদ আনসার ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে ঘুষ গ্রহণ করেছেন আঃ জলিল এবং তিনি জানান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত রাজিবুল (টিআই) কাছ থেকে আমি গ্রুপ কিনেছি অতএব রাজিবুলকে টাকা দিতে হবে মর্মে জলিল উক্ত টাকা গ্রহণ করেন। তথ্য আরো জানায় আনসার ও ভিডিপি দলনেতা দুর্নীতিবাজ ও বহু অপকর্মের হোতা আঃ জলিল বিগত সংসদ নির্বাচনে সার্টিফিকেট তৈরি করে দিবে বলে এলাকার ২৭ জনের নিকট থেকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা সর্বমোট ১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। আঃ জলিলের এ দুর্নীতির ঘটনা প্রত্যক্ষ অবগত রয়েছেন দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের দলনেত্রী ফিরোজা খাতুন, আছিয়া খাতুন (স্বামী- বাবলু) গ্রাম- খাটুয়াডাঙ্গা, রাকিবুল ইসলাম, গ্রাম- বিপ্রকোনা প্রমুখ।
আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মনিরামপুর উপজেলা বরাবর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুজা ২০২৬ উপলক্ষে প্রত্যেক সদস্য/সদস্যার কাছ থেকে হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে ডিউটি বাবদ তাদের কাছে আরো ৫০০ টাকা করে ঘুষ চাইছে। নকল সনদ তৈরি করতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিচ্ছে, চাকরী দেওয়ার নামে ১ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে ১০/১৫ জন দলনেতা কমান্ডার এ দুর্নীতি কাজের হোতা। সাধারণ সদস্যরা এদের কাছে জিম্মী। অভিযোগে আরো প্রকাশ নির্বাচনীর জন্য অগ্রীম ঘুষ দিতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা আগেই নিয়ে নিচ্ছে ২ হাজার টাকা। ভুয়া সনদ ধারী লোক দিয়ে ডিউটি করানো হচ্ছে টি আই রাজিবের সহযোগিতায়।
এসমস্ত দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ জড়িত মনোহরপুরের ইউনিয়ন দলনেতা জি এম আশরাফ, দলনেতা জুবায়ের (মনিরামপুর), রফিকুল (কুলটিয়া), রবিউল (তাহেরপুর)। এসমস্ত দুর্নীতি ও অপর্কেমর এর মূল হোতা আঃ জলিল। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আঃ জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্মিত্তে মনিরামপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
