সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অবসরের পর আব্দুল মালেকের সম্পদের বহর নিয়ে এখন সাতক্ষীরাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আরিফ সরদারের ছেলে আব্দুল মালেক ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এলডি-কাম-টাইপিস্ট পদে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিজীবন শুরু হয় যশোর অফিসে।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরিকালে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও স্বজনদের নামে-বেনামে শত শত বিঘা কৃষিজমি, শহরে বহুতল ভবন, মার্কেট ও মূল্যবান প্লটের মালিক বনেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কচুয়া, কাদাকাটি ও তালা উপজেলার মুড়াগাছা বিল এলাকায় স্ত্রী শরিফুর নেছা খুকু, ছেলে মুজাহিদুল ও শ্যালক সালাউদ্দীনের নামে প্রায় দেড় থেকে দুইশ বিঘা কৃষিজমিসহ বুধহাটা বাজার মার্কেটে দোকান কেনা হয়েছে। এছাড়া মেয়ের বিয়েতে রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ও একটি দামি গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের কামানগর এলাকায় তাঁর একটি পাঁচতলা ভবন ও মার্কেট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া রাজার বাগান, যশোর এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট ও জমি রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, খড়িয়াডাঙ্গা, গোপালডাঙ্গা, সুখদেবপুর ও নেহালপুর এলাকায় নামে-বেনামে আরও ৭০ থেকে ৮০ বিঘা জমি এবং ব্রহ্মরাজপুর বাজারে একটি দ্বিতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে ২০২৩ সালে অবসরের পর খুলনা দুদকের একটি দল তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে আসে। অভিযোগ আছে, তখন মালেক শহর ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে গ্রামের পুরাতন বাড়ি দেখিয়ে দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি জামে মসজিদের নামে দান করা ১০ বিঘা জমি দীর্ঘদিন নিজের দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে গ্রামবাসীর চাপে ওই জমির বিপরীতে মসজিদকে অর্থ প্রদান শুরু করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে দুদক খুলনায় লিখিত অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।
তবে আব্দুল মালেক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে ৩২ বিঘা এবং তাঁর স্ত্রী ২৮ বিঘা জমি পেয়েছেন। এর বাইরে অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। দুদকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা দুদকের একটি দল সরেজমিন তদন্ত করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
