মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ, মনিরামপুর:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের কথিত নিউ ব্রিকস ইটভাটাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। স্থানীয়দের মানববন্ধন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) পরিবেশ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের একটি পরিদর্শক দল সরেজমিনে ইটভাটাটি পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনের সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসী, ভাটা মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা ভাটার বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন (ঞওঘ), ভ্যাট নিবন্ধন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের অনুমোদন, অগ্নিনির্বাপক সনদসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভাটার মালিক হিসেবে পরিচিত মহিদুল ইসলাম প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্রই দেখাতে পারেননি। এ সময় পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা প্রশ্ন তোলেন, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কীভাবে বসতবাড়ি ও আবাদি ফসলি জমির মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ভাটা মালিক সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে উপস্থিতরা জানান।
পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা ভাটার আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন। দেখা যায়, ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, কয়লার ধুলা ও ছাইয়ে আশপাশের বাড়িঘর, গাছপালা এবং কৃষিজমি দূষিত হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চাল, দেয়াল, উঠান এবং গাছের পাতায় কালো ধুলার স্তর জমে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এই দূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া ফসলের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, অবৈধ ইটভাটার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা মানববন্ধন করেছেন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অবশেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শনে তারা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
সবকিছু পর্যবেক্ষণ শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অবিলম্বে ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভাটা মালিককে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা উপস্থিত এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত এই ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় ভাটা চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভাটা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ও উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি পরিবেশ আইন অমান্য করে বসতবাড়ি ও কৃষিজমির মাঝে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষিজমি সংরক্ষণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং অবৈধ নিউ ব্রিকস ইটভাটার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ নিশ্চিত করবে।
