, , ,

কেশবপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে শেখ রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)।

সোমবার উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মির্জানগর গ্রামে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে ফসলি জমির ক্ষতি করার পাশাপাশি ভারী যানবাহন দিয়ে মাটি বহনের ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।

অভিযানকালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করা এবং রাস্তার ক্ষতি করার অপরাধে শেখ রফিকুল ইসলামকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- আরোপ করা হয়। দ-প্রাপ্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। আজ ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে আমরা তেমনই একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছি।

সেখানে শেখ রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাটি কাটছিলেন। এই অবৈধ মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন আমাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী যানবাহন বা ড্রাম ট্রাক দিয়ে এই মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এটি সরকারি সম্পত্তির যেমন ক্ষতি, তেমনি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তি তৈরি করছে।

অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)’ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দিয়েছি এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের গ্রামীণ অবকাঠামো ও ফসলি জমি আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশ রক্ষা, সরকারি নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেশবপুর উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আমাদের এই ধরণের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইন অমান্য করে পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিঘিœত করলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযান চলাকালে থানা পুলিশের একটি দল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ