, , ,

কেশবপুরে খেজুরের রস-গুড় তৈরির কাজ শুরু, ৮কোটি টাকা আয়ের আশা গাছিদের

আরো খবর

মোঃ রূহুল কুদ্দুস,কেশবপুর(যশোর): ঋতু পরিক্রমায় হেমন্ত কাল শুরু হয়েছে। আর সেই সাথে কেশবপুরসহ আশপাশে খেজুরের রস এবং গুড় তৈরির কাজে স্থানীয় গাছিদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ভোরের আলো দেখার শুরু থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত খেজুর গাছ কেটে রস বের কারার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা । মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুলগ্রাম জামতলা এলাকার দাসপাড়া সড়কে দেখা হয় গাছি আজিজুরের সাথে, তিনি সকাল থেকে গাছ (তোলা) কাটা শুরু করেছেন। এক দিনে ১৮থেকে ২০ টি খেজুর গাছ কাটতে পারেন বলে জানন। ১৯৮৬ সালে কেশবপুরে বন্যা শুরুর আগপর্যন্ত সারা দেশের মধ্যে প্রধান খেজুর গুড়ের মোকাম ও সর্বাধিক গুড় উৎপন্ন এলাকা

হিসাবে সারা দেশে পরিচিত ছিল। ৮৬ সালের বন্যার পর থেকে অব্যাহত বন্যা এবং ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কেশবপুরের খেজুর গাছ কমতে থাকে, বছের পর বছর কেশবপুর উপজেলার বৃহৎ অংশ পানিবদ্ধতার শিকার হয়ে মাঠের পর মাঠ পানিতে দীর্ঘ দিন তলিয়ে থাকায় হাজার হাজার গাছ মারা যায়। অপর দিকে বৈরি পরিবেশের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় গাছিদের সংখ্যা কমে গেছে। সরকারি হিসেবে কেশবপুর উপজেলায় বর্তমান খেজুর গাছের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার এবং কৃষিঅধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে এ উপজেলায় গাছি আছেন ৩৮০ জন। প্রকৃত পক্ষে, মাঠ জরিপে গাছ এবং গাছির সংখ্যা বেশি হবে বলে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে। শত শত বছর ধরে কেশবপুরের খেজুরের গুরের সুখ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে। কেশবপুর শহরের গোড়পত্তন হয় খেজুর গুড় শিল্পকে কেন্দ্র করে। হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদীর তীরে বহু গুড় তৈরির কারখানা ছিল বলে কেশবপুরের ইতিহাসে লেখা পাওয়া

যায়। কেশবপুরের কপতাক্ষ নদের তীরে ত্রিমোহিনী বাজারের উৎপত্তি খেজুরের গুড় শিল্পকে ঘিরে। এখানকার উৎপাদিত খেজুর গুড় ও গুড় থেকে তৈরি চিনি গত১৮শতকের শেষে ও ১৯শতকের শুরুতে ব্রিটেনে রপ্তানি হয়েছে এমন তথ্য বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়।
বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে, উপজেলার গড়ভাঙ্গা, ঈমান নগর, বাকাবর্শি, পাঁজিয়া, নেপাকাঠি, কমলাপুর, ভালুকঘর, ত্রিমোহিনী, ভাণ্ডারখোলা, হাসানপুুর,কাবিলপুর,সাতবাড়িয়া, জাহানপুুর,দোরমুটিয়া, মূলগ্রাম, নতুন মূলগ্রাম, হাবাসপোল, মধ্যকুল,বায়সা, শ্রীরামপুর, জাহানপুর, কড়িয়াখালি, বেগমপুর, চাঁদড়া, মির্জানগর, বরনডালি গ্রাম এখনো খেজুর রস ও গুরের জন্য উল্লেখযোগ্য।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক ইনকিলাবকে মঙ্গলবার সকালে জানান, কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নতুন করে খেজুর গাছের চারার রোপন প্রদর্শনী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে উপজেলার ৮নম্বর সুফলাকাঠি

ইউনিয়নের সুফলাকাঠি গ্রামে চলতি বছর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপদ গুড় তৈরিতে গাছিদের উদ্বুদ্ধ করে এক্সপোর্ট কোয়ালিটি নিশ্চত করা যাতে কেশবপুরের উৎপন্ন খেজুরের গুড় বিদেশে রপ্তানি করা যায়। বিশেষত, শীতে বাদুড়ের উপদ্রব থেকে খেজুরের রস কে সুরক্ষা করে গুড় উৎপাদনে গাছিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
চলতি বছর কেশবপুর উপজেলার বৃহত অংশ পানিবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকায় এবং তুলনামূলক বৃষ্টির মৌসুম অগেভাগে শেষ হওয়ায় কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে এবার খেজুর গাছ (তোলা) কাটা হবে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৮কোটি টাকার রস ও গুড় উৎপান্ন হবে বলে স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ী অলিয়ার রহমান দাবি করেন।#

আরো পড়ুন

সর্বশেষ