মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে মনিরামপুরের এক পরিবারের চারজনের মরদেহ ১১দিন পর মনিরামপুরের মোহনপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে আজ বুধবার সকাল ৭টায় মরদেহ চারটি বাড়িতে আনা হয়েছে।
এদিকে লাশ বাড়িতে আসার খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী সমবেদনা জানাতে ও এক নজর দেখতে মোহনপুরে নিহতদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এরআগে আজ সকালে স্থানীয় আশপাশের মসজিদ থেকে আনা হয়েছে চারটি খাটিয়া।

পারিবারিক কবরস্থানে শুরু হয়েছে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার কাজ। আজ দুপুরে গোসল ও বিকেল তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে নিহত নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬), দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানার (৩) মরদেহের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে তাজা চার প্রাণ পুড়ে ছাই হওয়া মরদেহগুলোর অবশিষ্টাংশ দেখে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত তুহিনের পরিবার।
নিহত তুহিনের মামা খাইরুল আলম জানান,
বাড়িতে কান্নাকাটি করার মত তেমন কেউ নেই। ১০ বছর আগে তুহিনের মা মারা গেছেন। তার বড়ভাই প্রিন্স সিলেটে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকত তুহিন। তাদের কোন বোন নেই। গ্রামের বাড়িতে একমাত্র বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান থাকেন।
খাইরুল আলম বলেন, মেধাবী চাকরিজীবী ছোট ছেলে, পুত্রবধূ ও শিশু দুই নাতনির লাশ দেখে বেহুশ তুহিনের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান। আগুনে পুড়ে প্রিয় চার জনের প্রাণ যাওয়ার খবর পেয়ে পাগল প্রায় তিনি। কারও সাথে তেমন কথা বলছেন না। প্রায় সময় চুপ থাকছেন। চলাফেরা ও খাওয়াদাওয়া অনিয়মিত হওয়ায় ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে মতিয়ার রহমানের।
খাইরুল আলম আরও বলেন, পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার কাজ চলছে। মরদেহ চারটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে। দুপুরে গোসল ও বিকেল তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তুহিনের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন বলেন, রিসোর্টে লাগা আগুনে পুড়ে নিহত আমাদের ভাই তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের মরদেহ চেনার উপায় ছিল না। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হতে তুহিনের বাবা মতিয়ার রহমান ঢাকায় এসে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন গত ১৯ অক্টোবর। আট দিন পর সোমবার নমুনা রিপোর্ট
আমাদের হাতে আসে। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে আমাদের লাশ বুঝে দেওয়া হয়।
নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত ‘গ্রান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকতেন। গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ফ্যামিলি ট্যুরে কক্সবাজার সমুদ্র দেখতে ঢাকা থেকে বের হন। পরের দিন শুক্রবার তিনি পরিবার নিয়ে সমুদ্রপাড়ে টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। সেখানে শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগলে একসাথে পুড়ে তাদের চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
