ভ্রম্যমান প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে চরিত্রহীন শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল চরিত্রহীন ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করাসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২০ সালে বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ হাই অবসর গ্রহণ করলে তদস্থলে শাহ আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও ছাত্রী ধর্ষণের মত জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে।
তথ্যানুসন্ধানে ও মামলা সূত্রে জানা গেছে শাহ আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। উক্ত বিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর শাহ আলম সহকারী শিক্ষক হিসেবে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকেন।
বহু অপকর্মের হোতা শাহ আলম বিদ্যালয় চলাকালীন গত ১৭/৮/২৬ চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। শিক্ষক শাহ আলমের এমন জঘন্যতম ধর্ষণ কর্মকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনাটি তাৎক্ষনিক ভাবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ধর্ষিতা ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশিরা জানতে পারেন মেয়েটি অসুস্থ ও কান্নাকাটি করছে। পরদিন ১৮/৮/২৬ যথানিয়মে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে এলাকার উত্তেজিত লোকজন বিদ্যালয়ে এসে ধর্ষক শাহ আলমকে গণ পিটুনি দেয়। পরে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষিতার অভিভাবক কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ধর্ষণ মামলা নং- ০৮/ তাং- ১৮/৮/২৬। ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক শাহ আলম আড়াই মাস জেল খাটেন। জেল খেটেও শাহ আলমের চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি। । বিদ্যালয়ের অসহায় দরিদ্র ছাত্রীদের অর্থ ও খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে জঘন্য অপরাধ ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন।
শিক্ষকতার মতো এমন মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে চরিত্রহীন সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের চাকুরী কিভাবে বহাল থাকে এ জিজ্ঞাসা এলাকার সচেতন মহলের। তাছাড়া ধর্ষিতা ছাত্রী ও এলাকাবাসী ধর্ষক শাহ আলমের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ছাত্রী ধর্ষক চরিত্রহীন শাহ আলমের বরখাস্তসহ শ্রেণি পাঠদান থেকে বিরত রাখার আহবান জানিয়েছে এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নানিলে আগামীতে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে পাঠাবে কি না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। কারণ এ ধরনের শিক্ষক যদি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকে তাহলে আগামীতে বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাবে এ অভিমত এলাকার বিজ্ঞ মহলের।
