একাত্তর ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতটি ছিল মেসিময়। বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের দেখা, ছুঁয়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, ম্যাচজুড়ে করেছেন দুর্দান্ত পারফর্ম। এমন দিনে মেসির প্রশংসা হওয়াটাই বরং স্বাভাবিক। কানসাসের সেই উন্মাদনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
মেসি বন্দনায় মেতে ওঠে গোটা বিশ্ব। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ও ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়ে আছে সবাই। এসবের মধ্যেও উঁকি দিয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে মেসির করা একটি ‘ফাউল’ নিয়ে। এজন্য তাকে লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল কি-না, সেই আলোচনাও তুলছেন কেউ কেউ।
কানসাসে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। এদিন মেসি ম্যাজিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পাওয়া মেসি বাকি দুটি গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে। ৬০ ও ৭৬ মিনিটের ওই দুই গোলে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে, অর্থাৎ পরের দুই গোল করার আগেই অবশ্য একটা ঘটনা ঘটিয়ে বসেন মেসি। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দিকে একটি ফাউল করেন মেসি। বল তখন মান্দিরের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। মেসি ছিলেন তার ঠিক পেছনে। ওই পজিশন থেকে মেসির পক্ষে বল কেড়ে নেওয়ার সুযোগও তেমন ছিল না।
এমন সময়ে মেসির পেছন থেকে করা চ্যালেঞ্জ মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনে গিয়ে লাগে। লুটিয়ে পড়েন আলজেরিয়ার অধিনায়ক। এজন্য মেসিকে হলুদ কার্ডও দেখাননি পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক। এ নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। কেউ কেউ বলছেন, এ ঘটনায় মেসিকে লাল কার্ড দেখানো দরকার ছিল।
ভেনেজুয়েলার সাবেক ফুটবলার আলেজান্দ্রো মরেনোর দাবি, এজন্য মেসিকে লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘এটা লাল কার্ড ছিল। মেসিকে অবশ্যই কার্ড দেওয়া উচিত ছিল। আর এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’
এমন ফাউল কেউ করলে তার মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত বলেও মনে করছেন এই ফুটবল বিশ্লেষক। মরেনো বলেন, ‘আপনি যদি ঘটনাটি সরাসরি দেখেন, তবে সঙ্গে সঙ্গেই এটা ফাউল মনে হবে। এরপর যখন রিপ্লে দেখলেও মনে হবে, এটি নিশ্চিত ফাউল। এটাকে ভিএআর দিয়ে পুনরায় দেখার মতো ঘটনা ছিল। সাইমন মার্চিনিয়াককে কেন রিপ্লে দেখার জন্য মনিটরের কাছে ডাকা হলো না? মেসির এটি লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মেসিকে যত ভালোবাসি না কেন, সত্যি বলতে, ওটা খুব মারাত্মক এবং বাজে একটি ট্যাকল ছিল। আপনি যখন পেছন থেকে কারও হাঁটুর নিচ থেকে শুরু করে গোড়ালি পর্যন্ত কাফের ওপর ওভাবে বুট চালিয়ে দেবেন, তখন আপনাকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দেওয়া উচিত।’
ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ফুটবলার নেদুম ওনুওহা বলেন, ‘আমার মতে, এটি সম্ভবত একটি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। যখন আলজেরিয়ার খেলোয়াড় মাঠে পড়ে গেলেন, তখন স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল মেসি বেশ চিন্তিত। তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি এমন কিছু করে ফেলেছেন যা তাকে বিপদে ফেলতে পারত।’
সাবেক এই ফুটবলার আরও বলেন, ‘আমি ধরে নিচ্ছি রেফারি ঘটনাটি খেয়াল করেননি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, ওই ফাউলটি লাল কার্ড পাওয়ার মতোই ছিল।’
এদিকে মেসির সেই ট্যাকলটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, মান্দি তখন দ্রুত কোনো বিপজ্জনক আক্রমণে যাচ্ছিলেন না। মেসির অবস্থান থেকেও বল কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি ছিল না। সেই অবস্থায় পেছন থেকে এমন ‘ফাউল’ অন্তত হলুদ কার্ডের দাবি রাখে এমনটাও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র: সমকাল
